একই পদে দুই গ্রেডের বৈষম্যের কারণে অডিটর পদকে দশম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিতে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন দেশের নিরীক্ষা ও হিসাব বিভাগের অডিটররা। ফলে বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ) ও কম্পট্রোলার জেনারেল অব ডিফেন্স ফাইন্যান্স (সিজিডিএফ) কার্যালয় এবং এর অধীন সব দপ্তরের কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে জিও জারির দাবি না মানা হলে আগামী রবিবার থেকে টানা সাত দিনের অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন কর্মকর্তারা।
আন্দোলনকারী অডিটররা বলছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে অডিটরের পদকে ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের নির্দেশনা দেওয়া হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর ওই রিট মামলার পক্ষভুক্ত ৬১ জন অডিটরের পদকে ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করে। দেশের বাকি ৬ হাজার ৯৮৫ জন অডিটর একই পদে থেকেও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
গতকাল বুধবারও রাজধানীর সেগুন বাগিচার হিসাব ভবনের সামনে তারা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন। সকালের দিকে ক্যাডার কর্মকর্তারা অফিসে এলে তাদের ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তারা ক্যাডার কর্মকর্তাদের তাদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে সংহতি জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অডিটর পদকে ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করার লক্ষ্যেই চলমান আন্দোলন। জিও জারি না হওয়া পর্যন্ত তা চলবে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে দাবি মানা না হলে রবিবার সারা দেশ থেকে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে টানা সাত দিন অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে সংবাদ সম্মেলন করেন অডিটররা। সংবাদ সম্মেলনে অডিটরদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন আহমেদুর রহমান ডালিম। উপস্থিত ছিলেন ছিলেন মো. মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ মোরশেদ আলম, মো. আব্দুল আজিজ, আল আমিন, মনজুরুল ইসলাম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থ সচিবের পদত্যাগ দাবি করে আলিমুর রহমান ডালিম বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসর বর্তমান অর্থ সচিব দেশের অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস বিভাগকে অকার্যকর করার মাধ্যমে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাই এ অর্থ সচিবের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করছি। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য অর্থ সচিব দায়ী এবং এর দায় তাকেই নিতে হবে। কারণ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠির ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস বিভাগের অডিটর পদটিকে ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত না করার জন্য বিভিন্ন ধরনের তালবাহানা করছেন তিনি। এ অধিকার আদায়ে সারা দেশের সিএজির কাঠামোভুক্ত অডিটররা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। আমরা কোনো আন্দোলন চাই না, আন্দোলন আমাদের কাজ না। আমরা আমাদের কর্মে ফিরে যেতে চাই। আমরা আদালতের সিদ্ধান্তে অতিদ্রুত ‘অডিটর’ পদটির দশম গ্রেডে বাস্তবায়ন চাই।
আহমেদুর রহমান ডালিম বলেন, একই পদে দুই ধরনের বেতন থাকাটা কখনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এমন বিষয় কর্তৃপক্ষকেই নৈতিকভাবে এবং দায়িত্বশীল হয়ে সমাধান করা প্রয়োজন। ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে করা রিট পিটিশনের রায়ে সিএজি ও অধীন অফিসের পদকে ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নত করার পক্ষে দেওয়া হয়। পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ শুধু ৬১ জন মামলার পক্ষভুক্ত রিট পিটিশনারকে ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার আদেশ দেন। অর্থ বিভাগের একটি দুষ্টু চক্রের কারণে আর কেউ দশম গ্রেডে উন্নীত হতে পারেনি।
তিনি বলেন, এ বছরের ১২ আগস্ট অ্যাডিশনাল ডেপুটি কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (পার্সোনাল) অর্থ বিভাগের সচিবের কাছে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য তাগিদ দিয়ে একটি চিঠি দেন। পরের দিন ১৩ আগস্ট অর্থ বিভাগের প্রশাসন ও সমন্বয় অনু বিভাগের প্রশাসন-২ অধিশাখা আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছে দশম গ্রেডে উন্নীত করা যাবে কি না, সে বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য এক চিঠিতে অনুরোধ জানান।
সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কার্যালয় থেকে অর্থ বিভাগের সচিবের কাছে সিএজি কার্যালয় ও এর অধীন দপ্তরগুলোর অডিটর পদের বেতন গ্রেড ১১তম থেকে ১০ম উন্নীত করার আদেশ বাস্তবায়ন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফের বিশেষভাবে অনুরোধ করে। কিন্তু এখনো কোনো নির্দেশনা জারি হয়নি।
১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের জন্য দেশব্যাপী ঢাকাসহ সব বিভাগ, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সব অডিটর, সুপার এবং নিরীক্ষা ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তারা গত ৮ আগস্ট থেকে সেগুন বাগিচার হিসাব ভবন চত্বরে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
