ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান

প্রাথমিক প্রমাণ না পেলে মামলা থেকে নাম বাদ

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৪:৩৮ এএম

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সহিংসতার ঘটনায় মামলায় অভিযুক্তদের নাম নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে পুলিশ। গণহারে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করার বিষয়ে সতর্ক করে বার্তা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এতে বলা হয়েছে হত্যা ও অন্য মামলায় প্রাথমিক তদন্তে কোনো আসামির সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে তার নাম বাদ দিতে হবে। এ ছাড়া সঠিক তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এসব মামলায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীকে গ্রেপ্তার না করতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যাকা-ের ঘটনায় যারা জড়িত রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এতে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় না, তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত নয়এমন অনেক ব্যক্তির নামে আসায় সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনায় পড়েছে পুলিশ। ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিয়ে যথাযথ যাচাইয়ে গুরুত্ব দিতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে মামলা নেওয়া ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও প্রভাবিত না হয়ে প্রাথমিক প্রমাণে জোর দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির প্রথম সভায় সিদ্ধান্তের পর গত ৮ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়। পরে ১০ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব ইউনিটকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেন্সিয়াল) মো. কামরুল আহসানের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী ব্যক্তির পরিবার বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বিভিন্ন আদালত বা থানায় করা মামলায় সঠিক তথ্য প্রমাণ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। হত্যাকা- ও অন্যান্য মামলায় তদন্তের আগে কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া না গেলে তাদের নাম প্রত্যাহারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত আপডেট তথ্য আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিবেদন আকারে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক-ডিআইজি (কনফিডেন্সিয়াল) মো. কামরুল আহসান বলেন, ‘পুলিশ আগে যেভাবে কাজ করেছে, ভবিষ্যতে যেন সেভাবে কাজ না করে। আমরা একটা প্রফেশনাল পুলিশিং চাই, যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে। এজন্য আইনে এ-সংক্রন্ত বিষয় থাকার পরও যথাযথ গুরুত্ব দিতে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।’

কোটা সংস্কার কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের প্রথমদিকে ছাড় দিলেও একপর্যায়ে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর জেরে জুলাই-আগস্ট মাসে সরকারি হিসাবমতে সাত শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

এ ঘটনায় আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ভারতে চলে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা-সদস্য, রাজনীতিক, নেতাকর্মী, সাংবাদিকদের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কয়েকশ মামলা হয়েছে। এমনকি একই ব্যক্তিকে অনেক মামলায় আসামি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে কাউকে হয়রানি করা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত