দাম্পত্য কলহের জেরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় স্ত্রীসহ তিনজনের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার গওলা গ্রামের ওই ঘটনায় ওই তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। দগ্ধ ওই তিনজন হলেন অভিযুক্ত হাসান আলীর স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), শারমিনের চাচি শিরিন আক্তার (৫৫) ও চাচাতো ভাই রুবেল হোসেন (৩২)।
পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার ধামরাই উপজেলার আমতা ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের হাসান আলীর সঙ্গে সাটুরিয়া উপজেলার গওলা গ্রামের মৃত আতোয়ার হোসেনের মেয়ে শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৯ বছরের রোহান নামের এক ছেলে আছে।
বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে কলহ লেগে ছিল। শারমিন আক্তার বেশ কয়েকবার বাবার বাড়ি চলেও আসেন। গত বৃহস্পতিবার শারমিন আক্তার বাবার বাড়ি এসে স্বামী হাসান আলীকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ খবর শুনে হাসান আলী শুক্রবার সকালে শ^শুরবাড়ি আসেন। স্বামী আসার খবর শুনে শারমিন আক্তার তার চাচার বাড়িতে আশ্রয় নেন। এ সময় হাসান আলী চাচা শ্বশুরের বাড়ির বাথরুমের ওপর দিয়ে রুমের ফলস সিলিং ভেঙে রুমে প্রবেশ করে কেরোসিন ঢেলে শারমিনের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। তখন শারমিনকে বাঁচাতে এসে চাচি শিরীন আক্তার ও চাচাতো ভাই রুবেলও দগ্ধ হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়।
শারমিনের ভাবী লিজা পারভিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে শারমিন তার স্বামীকে তালাক দেবে বলে সব ধরনের কাগজপত্র ঠিক করছিল। কিন্তু এ খবর পেয়ে হাসান আলী শুক্রবার সকালে এসে শারমিনের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। শারমিনকে বাঁচাতে আরও দুজন দগ্ধ হন।
সাটুরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মানবেন্দ্র বালো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ মামলা করেননি। মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
