পাকিস্তানে অদম্য ইমরানের পিটিআই চ্যালেঞ্জে সরকার

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:০২ এএম

পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ-প্রতিবাদ আটকাতে পারছে না দেশটির ক্ষমতাসীন সরকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ ও হয়রানি উপেক্ষা করেই দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে পিটিআই। এমনকি রাজধানী ইসলামাবাদে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

করতে সিনেটে বিশেষ বিল পাস হয়েছে। ‘দ্য পিসফুল অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড পাবলিক অর্ডার অ্যাক্ট ২০২৪’ নামে গত সপ্তাহে পাস করা আইনে সমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ‘অবৈধভাবে’ সমাবেশ করা ব্যক্তিদের তিন বছর ও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির করলে ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে আইনটিতে।

এরপরও গত সপ্তাহে পূর্বঘোষিত মিছিল ও সমাবেশ করেছে পিটিআই। সমাবেশের শেষ দিকে পিটিআই সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরে উসকানির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় দলটির চেয়ারম্যানসহ আরও ১২ নেতাকে। পিটিআই দমনে নতুন নতুন পন্থা নিলেও, আদতে খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না পাকিস্তানের জোট সরকার।

রাজধানী ইসলামাবাদ ঘিরে থাকা সড়কগুলোয় কয়েক সপ্তাহ ধরেই সারি করে রাখা জাহাজের কনটেইনার; আছে অন্যান্য প্রতিবন্ধকতাও। যেকোনো বিক্ষোভে যাতে তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগানো যায়, সেভাবেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে এগুলো। অস্থিরতা তৈরি হওয়ার কোনো ইঙ্গিত পেলেই রাজধানীকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে কর্র্তৃপক্ষ।

গত রবিবার এসব কনটেইনার দিয়ে ইসলামাবাদ ও এর আশপাশের ২৯টি পথ আটকে দেয় পুলিশ। তবে সড়কে রাখা বিশাল বিশাল কনটেইনার আটকে রাখতে পারেনি ইমরান খানের সমর্থকদের স্রোত। সারি বেঁধে ধাতব প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে সমাবেশে যোগ দেন দলটির সমর্থকরা।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কারাগারে থেকেই নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ আইনিভাবে মোকাবিলা করছেন তিনি। ইমরানের বিরুদ্ধে এখনো কয়েক ডজন মামলা চলছে। সব মামলা থেকে জামিন এবং দণ্ড স্থগিত করে এখনই ইমরান খানের জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

গত বছরের ৯ মে ইসলামাবাদের হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ইমরান খান গ্রেপ্তারের জেরে মারাত্মক অস্থিরতা সৃষ্টি হয় পাকিস্তানে। টানা চার দিনের সে অস্থিরতায় অন্তত ১০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যু ও বহু সামরিক ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ধ্বংস হয়। ব্যারিকেড ভেঙে রাওয়ালপিন্ডিতে দেশটির সেনা সদর দপ্তরে প্রবেশ করে এবং লাহোরের কর্পস কমান্ডারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধরা। পরে সামরিক বাহিনী ৯ মে’কে ‘কালো দিবস’ হিসেবে অভিহিত করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত