ফখরুলের দাবি

জুলাই-আগস্টে গণহত্যায় বিএনপির ৪২২ জন নিহত

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:৩৫ এএম

জুলাই-আগস্টের গণহত্যায় বিএনপির ৪২২ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘নিহতদের নাম, পরিচয় ও ঠিকানা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই তালিকা বিএনপির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।’

গতকাল রবিবার সকালে দলের চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথযাত্রায় বিএনপির ভূমিকা, অবদান এবং প্রত্যাশা’র বিষয়গুলো তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের গণহত্যায় সারা দেশে ৮৭৫ জন শহীদ হন। এর মধ্যে কমপক্ষে ৪২২ জন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দেশ জুড়ে শহীদ হওয়া বিভিন্ন শ্রেণিপেশা-রাজনীতির মানুষের মধ্যে একটা বড় অংশ বিএনপির, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং তা তাদের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের অনিবার্য ফল।’

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপির ৪২২ জন শহীদ হন। এর আগে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপির ১ হাজার ৫৫১ জন শহীদ হন। গুম হন ৪২৩ জন। আর সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ মিলিয়ে এ সময় গুমের সংখ্যা প্রায় ৭০০। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেড় লাখ মামলা হয়। আসামি ৬০ লাখ। এসব শুধু বিএনপির ত্যাগের পরিসংখ্যানই নয়, বরং বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জনের পথে দলটির অবিচল সংগ্রাম ও অবদানের প্রতিফলন।’

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ বিজয়ের পেছনে রয়েছে অসংখ্য নির্যাতিত মানুষের বেদনার অপ্রকাশিত ইতিহাস। ১৬ বছরের প্রতিটি পরিবারের ক্রোধ ও অব্যক্ত বিস্ফোরণ বুকে ধারণ করে চলমান ছিল শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই।’

তিনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিভাগে যে অশান্তি, তাতে সুস্পষ্টভাবে ফ্যাসিবাদের দোসরদেরই ইঙ্গিত আছে। এটা পরিষ্কার হয়েছেÑ একটা চক্রান্ত চলছে। সীমান্তের ওপার থেকে কথিত ফ্যাসিবাদী হাসিনার অডিও-টডিও ফাঁস করে দেওয়া, ধর্মীয়ভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালানোÑ এসবই টোটালি বাকওয়াজ। ভারত থেকে সাংবাদিকরা এসেছিলেন, দেখে গেছেন, যেটা বলা হচ্ছে সেটা সঠিক নয়। কিছু রাজনৈতিক সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেটা সব সময় হয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের কাজ করতে দিন। অতিদ্রুত তারা সংস্কারকাজে হাত দিয়েছেন। এই কাজগুলো দরকার। কাজগুলো অতিদ্রুত শেষ করে একটা নির্বাচনের দিকে যাওয়া প্রয়োজন। যাতে নির্বাচনটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে পারে। জনগণ অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, নির্বাচনকেন্দ্রিক সংস্কারগুলো অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কার দ্রুত প্রয়োজন। আমাদের অনেককেই (নেতাকর্মী) শাস্তি দিয়ে দিয়েছে তারা (আওয়ামী লীগ)। শাস্তি দেওয়ায় দুই বছর তো নির্বাচন করতে পারব না। সেটার সংস্কার হওয়া প্রয়োজন।’ বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো রাষ্ট্র মেরামতে প্রণীত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের কথাও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

নিজের মধ্যকার সম্মিলিত ঐক্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অতিদ্রুত আমাদের সবার মতামত নিয়ে একটি সংস্কারের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনে যাবে। যে নির্বাচনটা অবাধ, নিরপেক্ষ হবে, জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। আমি একটু খোলামেলা বলছি, অনেক সময় দেখা যায়, অত্যন্ত দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের নেতারা এমন এমন কথা বলেছেন, যেটা সামগ্রিক ঐক্যের জন্য উপযোগী নয়। এটা একটা সমস্যা।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটি (বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ) পরিকল্পিত অপপ্রচার। যারা দুষ্টু, সব সময় ফায়দা লুটতে চায়, তারাই এসব বলে। কারণ আওয়ামী লীগ কোনো গণতান্ত্রিক দল নয়, গণবিরোধী একটা দল। আর বিএনপি হচ্ছে গণতন্ত্রকে জীবন্ত করার দল।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত