অর্থঋণ আদালতকে ফাংশনাল বা কার্যকর করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে প্রয়োজনে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক বসবে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সবকিছুই কেন্দ্রীয় ব্যাংক করবে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা গণমাধ্যমকে এসব কথা জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি তৈরিতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেডকে (এবিবি) যুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, একটি স্টেকহোল্ডার কনসাল্ট্রেশন করা যেতে পারে। পলিসিগুলো স্টেকহোল্ডার কনসাল্ট্রেশন থেকে মাথায় রেখে করা যেতে পারে। আর রিট করে খেলাপি ঋণ বন্ধ রাখার যে প্রবণতা সেটা বন্ধেরও দাবি জানান বিএবি নেতারা। তাদের এই দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে গভর্নর বলেছেন, এজন্য এনপিএল রেগুলেটরি পরিবর্তন করতে হবে। এ ছাড়া, অর্থঋণ আদালতের যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেগুলো দূর করার জন্যও দাবি জানান বিএবি নেতারা। এক্ষেত্রে গভর্নর বলেছেন, অর্থঋণ আদালতকে ফাংশনাল করতে হবে। এজন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আমরা কথা বলব।
এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব পলিসি বাস্তবায়ন করে সেগুলো বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে মাথায় রেখে করার দাবি জানান বিএবি নেতারা।
বিএবি জানিয়েছে, অর্থঋণ আদালতে প্রোপার্টি বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এটা দূর করার দাবি করেছে বিএবি। এক্ষেত্রে গভর্নর বলেছেন, অর্থঋণ আদালতকে কার্যকরী করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় এটর্নি জেনারেল অফিসের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক বসবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাজগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক করবে।
বৈঠকে তারল্য সহায়তা নিয়ে দুর্বল ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর জন্য আলাদা গাইড লাইন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে আলাদা ডিপার্টমেন্ট করারও দাবি জানানো হয়েছে। তবে তাদের এসব দাবির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর কোনো মন্তব্য করেননি।
এ সময় বিএবি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক, মিডল্যান্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক, এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম এ বাশার, প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালক ইমরান ইকবাল, পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুস, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালক ফেরদৌস আলী খান ও ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
