তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি, স্থানভেদে শ্রমবাজারের তারতম্য ইত্যাদি কারণে বিশ্ব জুড়েই ফ্রিল্যান্সিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। পড়াশোনার পাশাপাশি অর্থোপার্জনের এই সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র নিয়ে লিখেছেন এনাম-উজ-জামান
ফ্রিল্যান্সিং কী
ঘরে বসে অনলাইনে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজের চুক্তি করে এবং কাজ শেষ করে অনলাইনেই ক্লায়েন্টের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে আয় করাকে সংক্ষেপে ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধা
ফ্রিল্যান্সিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে কাজের স্বাধীনতা রয়েছে। কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় নেই। নিজের জন্য সময় বের করা সম্ভব হয়। একটি নরমাল জবের চেয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ে অনেক বেশি টাকা আয় করা সম্ভব হয়। কাজের কোনো লিমিট নেই। আর যত বেশি কাজ তত বেশি আয়। কম সময় ব্যয় করে বেশি টাকা আয় করা সম্ভব হয়। ঘরে বসে কাজ করা যায়। নির্ধারিত অফিসের প্রয়োজন হয় না। কোনো ধরনের অর্থ ইনভেস্টমেন্ট করা লাগে না।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের অসুবিধা
কাজের কোনো নিরাপত্তা বা গ্যারান্টি নেই। এমনও হতে পারে, সারা মাসে হয়তো একটিও কাজ পাবে না। অধিকাংশ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টা বোঝে না বিধায় ফ্রিল্যান্সিংকে সম্মানজনক জব হিসেবে মনে করে না। এখানে নিজের কাজ নিজেই করতে হয়। অন্যকে দিয়ে করানোর সুযোগ নেই। ক্লায়েন্টদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কোনো সুযোগ থাকে না। আমাদের দেশে পেমেন্টেরও কিছু অসুবিধা আছে।
কাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং
যারা কমপক্ষে একটি কাজে দক্ষ, যাদের কাজ শেখার প্রচুর আগ্রহ রয়েছে, যারা নতুন মাধ্যমে কাজ করতে দ্বিধাবোধ করে না ফ্রিল্যান্সিং তাদের উপযোগী। ফ্রিল্যান্সিংয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কমিউনিকেশন করতে হয় বলে একজন ফ্রিল্যান্সারকে অবশ্যই ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিং কোর্স
ফ্রিল্যান্সিং কোর্স নামে কোনো কোর্স নেই। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কোনো ধরনের কোর্স করার প্রয়োজন হয় না। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কোনো একটি বিষয়ে দক্ষতা প্রয়োজন। কোনো একটি বিষয়ে তোমার দক্ষতা থাকলে তুমি নিজে নিজে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলে নিজে নিজে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবে। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলা, পোর্টফোলিও সাজানো, জব অ্যাপ্লাইয়ের নিয়ম ইত্যাদি বিষয় অনলাইনে বিভিন্ন ব্লগ ও ইউটিউব থেকে শিখে নিতে পারবে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য কোনো একটি বিষয়ে তোমাকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তোমার যদি কোনো বিষয়ে দক্ষতা না থাকে, তাহলে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সেই বিষয়ে কোর্স করে দক্ষতা অর্জন করে নিতে পারো। মার্কেটপ্লেসে ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও কনটেন্ট রাইটিং ইত্যাদি বিষয়ে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে ভালো করতে যেকোনো একটি বিষয়ে নিজের দক্ষতা গড়ে তোল।
নিজের লক্ষ্য ঠিক করে নাও
ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়ার প্রথম ধাপে ঠিক করে নিতে হবে আপনি ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নিয়ে ফুল টাইম কাজ করবেন নাকি চাকরি বা অন্যান্য পেশার পাশাপাশি পার্টটাইম ফ্রিল্যান্সিং করবে। একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে চাইলে ফ্রিল্যান্সিংকে ফুল টাইম জব হিসেবে বেছে নিতে হবে। পক্ষান্তরে চাকরির পাশাপাশি তোমার মেধাকে কাজে লাগিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বাড়তি টাকা আয় করতে চাইলে কাজ করার জন্য তোমাকে নির্ধারিত কিছু সময় বের করে নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে ক্লায়েন্ট যেন আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে তা তোমাকেই নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ক্লায়েন্ট তোমার ওপর নির্ভর করতে দ্বিধা করবে। তোমারও কাজ পেতে অসুবিধা হবে।
কাজের ক্ষেত্র ঠিক করে নাও
কোন বিষয়ে ফ্রিল্যান্সিং করবে তা প্রথমেই তোমাকে ঠিক করে নিতে হবে। যে বিষয়ে তোমার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আছে, সেটিকেই কাজের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিতে পারো। যদি কোনো বিষয়ে অভিজ্ঞ নাও হয়ে থাকো, তাহলে কোন বিষয়টি শিখবে ও কোন বিষয়ে শেখার আগ্রহ আছে, সেটা ঠিক করে নিতে হবে। তুমি যে বিষয়ে আগ্রহী সে বিষয়টিকেই নিজের কাজের ক্ষেত্র হিসেবে নির্বাচন করতে পারো। এতে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে নিজের আগ্রহের বিষয়টির মার্কেটপ্লেসে চাহিদা কেমন, পেমেন্ট কেমন ইত্যাদি বিষয়ও তোমাকে বিবেচনায় রাখতে হবে।
কাজ করা ফ্রিল্যান্সিং সাইট ঠিক করে নাও
অনলাইনে হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান (ক্লায়েন্ট) তাদের কাজ করানোর জন্য ফ্রিল্যান্সারদের খোঁজে থাকে। তোমাকে অবশ্যই সে ধরনের জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে হবে। কারণ জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসে বেশি ক্লায়েন্ট থাকে তাই বেশি কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এলোমেলোভাবে অনেক মার্কেটপ্লেসে সময় দিলে তা কাজে আসে না। তাই কাজের শুরুতেই একটি বা দুটি মার্কেটপ্লেস ঠিক করে নাও যেখানে তুমি সময় ও মনোযোগ দেবে। জনপ্রিয় একটি বা দুটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করতে পারলে খুব অল্প দিনে সেই মার্কেটপ্লেসে নিজের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করে নিতে পারবে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে কাজের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা ও কাজের কোয়ালিটি মেনটেন করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মার্কেটপ্লেসে তোমার সুনামের ওপরই নির্ভর করে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের সফলতা।
