দুই ক্যাম্পাসের সাংবাদিকদের মিলনমেলা

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:১৯ এএম

একদিকে চলছে মৃদু তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে টানা ক্লাসের চাপ। একঘেয়ে রুটিনে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। এমন সময় কিছুটা স্বস্তির খোরাক হয়ে আসে বৃহস্পতিবার বিকেলটা। দল বেঁধে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) সফরে আসেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জাককানইবিসাস) সদস্যরা। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের এই মিলনমেলা ক্লান্তিময় জীবনে কিছুটা প্রশান্তি এনে দিয়েছিল।

জাককানইবিসাসের সদস্যরা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের আসার বিষয়টি কিছুদিন আগেই নিশ্চিত করেছিলেন। জানার পর থেকেই আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছিলাম তাদের আগমনের। সে অনুযায়ী কিছু প্রীতি অনুষ্ঠানের আয়োজনেরও ব্যবস্থা হয়েছিল। 

বিকেল ৪টার মধ্যে অতিথি সাংবাদিকরা আসেন বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে। আমরা সবাই একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হই। একই মিডিয়ায় কাজ করার সুবাদে সহকর্মী হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় ছিল আগে থেকে। তবে সবার সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে খুবই ভালো লাগল। পরে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির প্রাক্তন দুজন সভাপতি শাহাদুজ্জামান সাগর ও দীন মোহাম্মদ ভাই আমাদের সঙ্গে যোগ দেন। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা চলে ঘণ্টাখানেক। এ সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মৌসুমি ফলের আসরও অনুষ্ঠিত হয়। তীব্র গরমের মধ্যে মিষ্টিমধুর ফল আস্বাদন ছিল স্বস্তিদায়ক, মুহূর্তেই পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

পরে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় বাকৃবিসাস বনাম জাককানইবিসাস। ম্যাচে বাকৃবিসাস ন্যূনতম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে না পারলেও আনন্দ, উদযাপন ও অংশগ্রহণে পিছিয়ে ছিল না কেউই। প্রাণখোলা হাসি আর খুনসুটিতে মেতে ওঠেন সবাই। অতিথি টিমের ফাহাদ বিন সাঈদ ও আহসান হাবীব ছিলেন পারফরমেন্সের দিক থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল।

পড়ন্ত বিকেলে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে নৌকা ভ্রমণ হয়ে থাকল আরেকটি স্মৃতিময় অধ্যায়। সূর্যের শেষ আলোর সঙ্গে মৃদুমন্দ হাওয়া নৌবিহারের আনন্দে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। বিভিন্ন ব্যান্ড ও লোকজ গান কণ্ঠে তুলে নেন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা।

এরপর মাগরিবের আজান হলে সবাই ফিরে আসি টিএসসিতে। নামাজের পরপরই শুরু হয় রাতের খাবারের তোড়জোড়। কারণ রাতেই ক্যাম্পাসে ফিরে যাবেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা। টিএসসি ক্যান্টিনে আয়োজিত প্রীতিভোজে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য।

এরপর আসে বিদায়বেলা। জীবনে ভালো সময়গুলো এলেই খুব তাড়াতাড়ি চলে যায়। স্মৃতির পাতায় মনে রাখার মতো একটা বিকেল ছিল এটা।

কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসলাম বেগ বলেন, ‘সুন্দর এবং আনন্দঘন দিন কেটেছে আমাদের। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির আতিথেয়তায় আমরা মুগ্ধ। বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অতীতে যেমন সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।’

বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রাফীউল্লাহ ফুয়াদ বলেন, ‘একজন ক্যাম্পাস সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় আপনজন আরেকজন ক্যাম্পাস সাংবাদিক। ভ্রাতৃত্ব আর পেশাদারিত্বের দিক থেকে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা সবচেয়ে বেশি। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই আমাদের ক্যাম্পাসের আতিথেয়তা গ্রহণের জন্য। আমরা চাই দুই সংগঠনের সদস্যদের হাত ধরে এ রকম আনন্দঘন মুহূর্ত ভবিষ্যতে আরও আসবে এবং আমাদের সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত