গোপালগঞ্জে সরকারি উদ্যোগে ওষুধ উৎপাদন কারখানা নির্মাণে প্রায় ১১৪ কোটি টাকার অনিয়ম-ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া এর নির্মাণব্যয় বেড়েছে ৩৬২ কোটি টাকা। দুই বছরের এই প্রকল্পটি শেষ হয়নি ১২ বছরেও। অথচ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে কাজ শেষ করার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র ঔষধ কোম্পানি এসেনশিয়াল ড্রাগস (ইডিসিএল)।
জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, স্যালাইন এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ও ইনজেকশন উৎপাদনের লক্ষ্যে ইডিসিএলের তৃতীয় ওই কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অসংখ্য আপত্তি উঠেছে এক্সটারনাল অডিট রিপোর্টে। এর মধ্যে জুন পর্যন্ত অন্তত ২৩টি বড় ধরনের আপত্তি-নিষ্পত্তি করতে পারেনি ইডিসিএল।
প্রকল্পটিতে বেশি দামে জমি কেনা, সময়মতো মূল কাজ শুরু করতে না পারা, ঠিকাদার ও পরামর্শককে অনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি অতিরিক্ত বিল দেওয়া, দরপত্রে অনিয়ম, নির্মাণকাজে ধীর গতি, শিডিউল বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে গত মঙ্গলবার ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. এহসানুল কবিরকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তাকে অফিসে পাওয়া না যাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ইডিসিএল সূত্রমতে, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩১৫ কোটি টাকা। পরে ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বেড়ে প্রায় ৬০০ কোটি এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্যয় বাড়িয়ে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়।
কারখানাটি ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার কথা থাকলেও নানা অজুহাতে সাতবার সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু এখনো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। এরই মধ্যে গত জুন মাসে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে (আইএমইডি) কাজ শেষ করার প্রতিবেদন (পিসিআর) জমা দিয়েছে ইডিসিএল। যার অর্থ হলো কারখানাটি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত।
দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রকল্পটির আওতায় চারটি ইউনিটের মধ্যে পেনিসিলিন তৈরির ইউনিটটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে এসেছে ২০২০ সালে। আয়রন ট্যাবলেট ইউনিট চালুর পথে। বাকি দুটির মধ্যে স্যালাইন এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল তৈরির ইউনিটের কাজ এখনো চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব ইউনিটে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র বসালেও পরীক্ষা হয়নি। কাজের জন্য যন্ত্রগুলো প্রস্তুত কি না সেটাও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি (কমিশনিং)। বৈদ্যুতিক, যান্ত্রিক ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ বাকি রয়েছে। অন্যদিকে পানি শোধনাগারসহ অন্য অনেক কাজ চলছে।
যদিও প্রকল্প ব্যবস্থাপক বিএম ইমাম হাসান দেশ রূপান্তরের কাছে দাবি করেছেন, গত ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ করার পর জুন মাসে আইএমইডিতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী এক বছরের রক্ষণাবেক্ষণ সময়কালে যেসব কাজ করা দরকার, সেগুলো করা হচ্ছে। এ ছাড়া দু-একটা মেশিনের কমিশনিংয়ের কাজ চলছে।
তার দাবি, পেনিসিলিন ইউনিট চালু হলেও বাকি ইউনিট কাঁচামালের অভাবে চালু করা যায়নি। ৯ মাসেও কেন কাঁচামাল আমদানি হয়নি আর কাজ শেষ করার প্রতিবেদন দিতে কেন ছয় মাস লাগল এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রক্রিয়াগত কারণে এটা হয়েছে।
তবে দেশ রূপান্তরের হাতে আসা নথিতে দেখা গেছে, গত ২৭ জুন আইভি ফ্লুয়িড বা স্যালাইন প্ল্যান্টের ভবনে এইচভিএসি এবং বিএমএস সিস্টেম স্থাপনের কাজ শেষ করার কথা উল্লেখ করে সনদের জন্য ইডিসিএলে আবেদন দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজবিল টেলস্টার বাংলাদেশ লিমিটেড। এরপর ওই কাজ পরিদর্শন শেষে ৪ আগস্ট ইডিসিএলের কর্মকর্তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সনদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।
একইভাবে ‘বিডিডিই প্রজেক্ট স্যলুউশান লিমিটেড’ নামে আরেক ঠিকাদার বয়লার, ফিড ওয়াটার ট্যাংক, পাম্প, ফুয়েল ট্যাংক, চিমনি ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা স্থাপন সফল হয়েছে উল্লেখ করে গত ২৯ জুন প্রতিবেদন দিয়েছে ইডিসিএলের কর্মকর্তারা।
প্রকল্পে ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ইমাম হাসান বলেন, করোনা মহামারী এবং অন্যান্য কারণে সময় বেড়েছে। তবে প্রথমবারের চেয়ে দ্বিতীয় দফা যে ব্যয় বেড়েছে, সেটা তখনকার বাজারমূল্য ও আনুষঙ্গিক কারণে। তা ছাড়া ৮০০ কোটি টাকা অনুমোদন হলেও কাজ শেষে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তবে তার এই বক্তব্য নাকচ করে ইডিসিএলের একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, বাস্তবে প্রথমে অনুমোদন করা টাকা দিয়েই প্রকল্প শেষ করা সম্ভব ছিল। পরে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সেটা এত বেশি অস্বাভাবিক হয়েছে, তার পুরোটা খরচ করতে পারেনি।
ঠিকাদারদের অনৈতিক সুবিধা : নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পারফরম্যান্স সিকিউরিটির মেয়াদ না থাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারকে আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করলেও ঠিকাদারকে নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা করা হয়নি। এজন্য প্রায় ৫৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে সরকারের।
সরকারি কাজে নির্বাচিত ঠিকাদারকে পারফরম্যান্স গ্যারান্টি (পিজি) হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের চেক জমা রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নিয়ম মেনে কাজ না করলে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে এই চেক ঠিকাদারকে ফেরত দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটিতে ঠিকমতো কাজ না করেও অনেকে বিল নিয়েছেন। ফেরত পেয়েছে পিজি। তা ছাড়া পিজি না দিয়েও কাজ করেছেন অনেক ঠিকাদার।
সূত্রমতে, প্রকল্পটিতে প্রায় ৮০ কোটি টাকার কাজ পায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এনার্জিপ্যাক। নির্দিষ্ট সময়ে ঠিকমতো কাজ শেষ করতে না পারায় ইডিসিএল পিজি হিসেবে জমা দেওয়া তাদের ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকার চেকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর বাড়ায়নি। মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে বিল দিতে ইডিসিএলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু তাদের চাপ দিয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বিল আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া মাঝপথে কাজ ফেলে এনার্জিপ্যাক চলে যাওয়ায় পরে তিনজন ঠিকাদারকে অবশিষ্ট কাজ দেয় ইডিসিএল। এতে বাড়তি ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। এজন্য এনার্জিপ্যাককে কোনো জরিমানা তো দূরের কথা, উল্টো তারাই প্রায় ১৫ কোটি টাকা বকেয়া বিলের দাবি জানিয়ে চাপ দিচ্ছে। পুরো কাজ শেষ না করেও সফলভাবে কাজ শেষ করার সনদও নিয়েছে কোম্পানিটি।
একইভাবে আজবিল টেলস্টার টেকনোলজিস এসএলইউ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পিজির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ শেষ করার সনদ দেওয়া হয়েছে গত ৪ আগস্ট।
অনৈতিকভাবে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করতে ইডিসিএলের প্রভাবশালী কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্টদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের পরামর্শক এবং সুপারভাইজারি ফার্মের বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন না করায় সরকার প্রায় ২ কোটি ৫৪ লাখ ২২ হাজার টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। অন্যদিকে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে দরপত্র আহ্বান এবং মেয়াদের পর ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি করার কারণে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার অনিয়ম হয়েছে। এ ছাড়া দরপত্র বিজ্ঞপ্তি ব্যাপক প্রচার না করা এবং দরপত্র মূল্যায়নে প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে বেশি মূল্যে ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীর গতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি : সময়মতো প্রকল্পের কাজ শুরু করতে না পারার কারণে ১০ কোটি ৬৯ লাখ টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া কাজ বাস্তবায়নে ধীর গতি এবং বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে বেশি দামে জমি কেনা এবং কোম্পানির রাজস্ব বাজেট থেকে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে ইডিসিএলের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করে জমি অধিগ্রহণে সাড়ে ৭ শতাংশ হারে আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এ ছাড়া জমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রায় ৭ কোটি ১৩ লাখ টাকার বিল ভাউচার পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি প্রকল্পের ভূমি উন্নয়নে অবৈধ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। নকশাবহির্ভূতভাবে মাটি খননে ক্ষতি সাড়ে ২৩ হাজার টাকা। প্রকল্পের দরপত্র শিডিউল বিক্রির সাড়ে ৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি ইডিসিএল। বিধিবহির্ভূতভাবে প্রকল্পের গাড়ি মেরামতে আর্থিক ক্ষতি অন্তত ৭৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া অবৈধভাবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য পরিবহনে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ, চুক্তিবহির্ভূতভাবে বাড়তি কনটেইনার বিল পরিশোধে সরকার এবং ইডিসিএলের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২৩ লাখ টাকারও বেশি। নির্ধারিত মান অনুযায়ী আসবাবপত্র না কিনে প্রায় এক কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি পূর্তকাজে প্রকৃত কাজের চেয়ে বেশি দেখিয়ে প্রায় ১৭ লাখ টাকা বেশি বিল দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ : ইডিসিএলের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের ভবন নির্মাণ, নানা রকম যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং অন্য কাজগুলো সবই কারিগরি। কিন্তু প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইমাম হাসানের কারিগরি জ্ঞান না থাকায় মূলত এটির বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় বেড়েছে।
কারিগরি জ্ঞান না থাকলেও প্রকল্পের বিভিন্ন যন্ত্রপাতির গুণগত মান যাচাই করতে ইমাম হাসান বিশে^র বিভিন্ন দেশে একাধিকবার ভ্রমণ করেছেন।
ইমাম হাসানের বাড়ি গোপালগঞ্জে। স্নাতক (পাস) ডিগ্রিধারী এই কর্মকর্তা একসময় বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে ইডিসিএলের এই ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দেন তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইমাম হাসান দেশ রূপান্তরকে জানান, কারিগরি বিষয়ে পড়ালেখা না থাকলেও ওষুধশিল্পে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায়ও তিনি বেশ পারদর্শী। তা ছাড়া প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রকৌশলী এবং অন্য কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন। সবকিছু তিনি সমন্বয় করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় থেকে ইমাম হাসান পাতানো টেন্ডারের মাধ্যমে পছন্দের লোকদের বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ দিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন তিনি।
ইমাম হাসান বলেন, ‘সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়ার জন্য মূল ঠিকাদারকে বিভিন্ন সময় সুপারিশ করেছি। কিন্তু তারা আমার কথায় তাদের নিতেও পারে আবার নাও পারে। এখানে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি।’
এদিকে ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সহায়তায় ইমাম হাসান তার আপন বোন মাহমুদা সুলতানা (প্রশাসন বিভাগ) ও রুনা লায়লা (ক্রয় বিভাগ), আত্মীয় বেলাল সরদার, বিএম আরাফাত ইসলামসহ গোপালগঞ্জের অনেক লোককে কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে চাকরি দিয়েছেন। এসব নিয়োগ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
জানতে চাইলে ইমাম হাসান বলেন, ‘ভাই হিসেবে বোনের চাকরির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেছি। এটা তো কোনো অন্যায় না। এ ছাড়া নিয়োগ বোর্ডে আরাফাতের সঙ্গে পরিচয় হয়। এখানে সবাই নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছেন।’
ইডিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, ইমাম হাসান গোপালগঞ্জে ভ্যাকসিন তৈরির আরেকটি প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক হওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। এ-সংক্রান্ত কারিগরি কমিটির সদস্য সচিব তিনি। প্রকল্পের জনবল কাঠামোর ওই পদসহ চারটি পদে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। তবে ইমাম হাসানের দাবি, ওই প্রকল্পে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে তার নেই।
