বৈশ্বিক সহযোগিতা সংরক্ষণের লক্ষ্যে একটি ‘ভবিষ্যতের জন্য চুক্তি’ অনুমোদন করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। গত রবিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের দুদিনব্যাপী সম্মেলনে কোনো ভোট ছাড়াই চুক্তিটি গৃহীত হয়। এবারের আলোচনার শিরোনাম ছিল ‘ভবিষ্যতের জন্য শীর্ষ সম্মেলন’। প্রায় ৯ মাস ধরে আলাপ-আলোচনার পর এই সমঝোতা চুক্তিটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
সাধারণ পরিষদে গৃহীত চুক্তিটিকে ‘আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক, বহুপাক্ষিকতাবাদের মধ্যে সংযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি মাইলফলক বলে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এই চুক্তির এক সংযুক্তিতে একটি দায়িত্বশীল ও টেকসই ডিজিটাল ভবিষ্যতের লক্ষ্যে কাজ করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গুতেরেস দীর্ঘদিন ধরেই এই চুক্তির জন্য তাগিদ দিয়ে আসছিলেন। শান্তি এবং নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল সহযোগিতা, মানবাধিকার, লৈঙ্গিক সমতা, তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মতো বিষয়গুলো এই চুক্তির আওতায় রয়েছে। এতে প্রায় ৫৬টি বিস্তৃত পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
ইউক্রেন-গাজা-সুদানে চলমান যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন, জাতীয় ঋণ সমস্যা এবং নিয়ন্ত্রণহীন প্রযুক্তির উন্নয়নসহ বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলাই এই চুক্তির সামগ্রিক লক্ষ্য। বৈশ্বিক সংকটগুলো জাতিসংঘের সংস্কার ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সাধারণ পরিষদের এই সম্মলনে চুক্তি সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বহুপাক্ষিকতা ছড়িয়ে দিতে একটি নতুন সূচনার অঙ্গীকার এটি। পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য জাতিসংঘ ও এর কেন্দ্রে থাকা ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য উপযুক্ত বিষয়গুলোর আন্তঃসংযোগ ও আর্থিকভাবে স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে হবে।
সাধারণ পরিষদে গৃহীত এই চুক্তির সমালোচনা করেছেন রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ভারশিনিন। রাশিয়া এই চুক্তির ঘোষণায় একটি সংশোধনী যুক্ত করতে চেয়েছিল। ক্রেমলিনের দাবি ছিল, জাতিসংঘ কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া, নিকারাগুয়া, বেলারুশ ও ইরান রাশিয়ার এই সংশোধনী প্রস্তাবে সমর্থন জানালেও তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
