শরিয়তে ‘দাঈ’ অত্যন্ত মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ পরিভাষা। যুগে যুগে যত নবী-রাসুল দুনিয়ায় প্রেরিত হয়েছিলেন, সবাই দাঈর গুণে গুণান্বিত ছিলেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) যেহেতু সর্বশেষ, তারপর দুনিয়াতে আর কোনো নবীর আগমন ঘটবে না; তাই দ্বীনের এই সুমহান কাজ অব্যাহত রাখার জন্য এবং পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা উম্মতের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার জন্য উম্মতের যেসব ওলামায়ে কেরাম এই গুরুদায়িত্ব আঞ্জাম দেন, তাদেরই দাঈ বলা হয়। পবিত্র কোরআনে দাঈর কিছু গুণাবলি উল্লেখ হয়েছে। সেগুলো তুলে ধরা হলো।
অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা : প্রতিটি মুমিন মুসলমানের হৃদয়ে আল্লাহর ভালোবাসা থাকা জরুরি। তাই নানাবিধ আমল ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করা প্রতিটি দাঈর জন্য অত্যন্ত জরুরি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তবে যারা ইমান এনেছে, তারা আল্লাহকেই সর্বাপেক্ষা বেশি ভালোবাসে।’ (সুরা বাকারা ১৬৫) বোঝা গেল, ইমানদারের হৃদয়ে যখন আল্লাহর ভালোবাসা সর্বাপেক্ষা বেশি থাকবে, তখন তার কথার প্রভাব অন্যের মধ্যে পড়বে। কথায় আছে, যে কথাটি অন্তর থেকে আসে, তার প্রভাব শ্রোতার অন্তরে পড়ে।
পারিশ্রমিকের আশা না থাকা : যাপিত জীবনে দ্বীনের দাওয়াত প্রচার-প্রসারে দাঈর অন্যতম গুণ হলো, অন্তরে কোনো প্রকার পারিশ্রমিকের আশা না থাকা। তাই তো দেখা যায় নবীরা তাদের স্ব-স্ব উম্মতের প্রতি অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেছেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না। আমার পারিশ্রমিক তো তার জিম্মায় যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তবুও কি তোমরা জ্ঞান-বুদ্ধি খাটাবে না?’ (সুরা হুদ ৫১)
অনির্দিষ্টভাবে দাওয়াত দেওয়া : দাওয়াত দেওয়ার সময় দাঈর জন্য জরুরি হলো, নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণি-পেশা, কিংবা কোনো গোষ্ঠী ও ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে দাওয়াত না দেওয়া। দাওয়াতের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বীনের দরদ বেশি দেখা দেবে, তার পেছনে বেশি মেহনত করা।
অন্তরে দয়া-মায়া থাকা : দাঈর মধ্যে যে সব গুণাবলি থাকা জরুরি তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো তার অন্তরে উম্মতের দয়া-মায়া পরিপূর্ণরূপে থাকা। অপরের কল্যাণকামী হয়ে সব সময় দাওয়াত দেওয়া। দাঈর রাগ-বিরাগ, বিরক্তি সব ঝেড়ে ফেলে দেওয়া। শিবলি (রহ.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আবু জাহেলের কাছে তিন হাজার বার দাওয়াত নিয়ে গেছেন; কিন্তু কখনো রাগ ও বিরক্ত হননি।’
তাহাজ্জুদের সময় দোয়া করা : যুগে যুগে প্রেরিত সব নবী-রাসুল রাতের শেষ প্রহরে উঠে আল্লাহর কাছে বিনয় প্রকাশ করে দোয়া করতেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা রাতের অল্প সময়ই ঘুমাত এবং তারা সাহরির সময় ইসতেগফার করত।’ (সুরা জারিয়াত ১৭-১৮) অর্থাৎ নবীরা রাতের বেশিরভাগ সময় ইবাদতে কাটানোর পরও তারা নিজেদের আমল নিয়ে অহংকার করতেন না; বরং ইবাদতের ভেতর কত ভুল-ত্রুটি হয়েছে এই চিন্তায় আল্লাহর কাছে রাতের শেষ প্রহরে কাকুতি-মিনতির সঙ্গে ইসতেগফার করতেন। অপর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই তারা সৎকাজে দ্রুত গমন করত এবং আশা ও ভীতির সঙ্গে আমাকে ডাকত। আর তাদের অন্তর ছিল আমার সামনে বিনীত।’ (সুরা আম্বিয়া ৯০)
