ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার তদন্তের নির্দেশ এসইসির

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:৫৬ এএম

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই বহুল আলোচিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে দেখা গেছে। আমানতের প্রায় অর্ধেক লুট হয়ে যাওয়া ব্যাংকটির শেয়ারদর গত দেড় মাসে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকটির শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।

স্বল্প সময়ে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণ তদন্ত করতে গতকাল বুধবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে (সিআরও) নির্দেশ দিয়েছে এসইসি। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে এসইসির সার্ভিলেন্স বিভাগে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় চলতি বছরের ৬ আগস্ট থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বাজারে কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিংসহ অন্যান্য অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ডিএসইর সিআরওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়ার পালে হাওয়া লাগে। ব্যাংকটি থেকে বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস. আলমকে মুক্ত করার দাবি ওঠার পর থেকেই দাম বাড়তে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এস আলমমুক্ত করে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয়। এর পর থেকেই ব্যাংকটির পুরনো উদ্যোক্তারা ফিরে আসার দাবি জানাচ্ছেন এবং প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এমন প্রক্রিয়ার মধ্যেই শেয়ারটির দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে।

ডিএসইতে ব্যাংকটির শেয়ার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর গত ৬ আগস্ট শেয়ারটির দাম ছিল ৩২ টাকা ৬০ পয়সা। এরপর শেয়ারের দাম ধীরে ধীরে বেড়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর দাঁড়ায় ৩৯ টাকা ২০ পয়সা। তবে এরপর মাত্র ৯ কার্যদিবসে শেয়ারটির দর প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়ে গতকাল ৭০ টাকা ৪০ পয়সায় উন্নীত হয়। গত ৫ আগস্টের পর শেয়ারটির দাম বাড়ে ১১৬ শতাংশ। অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়ার পর তা তদন্তের নির্দেশনা দিল এসইসি।

পরিচালনা পর্ষদ থেকে এস আলমের পরিবারকে সরিয়ে দেওয়ার পর বর্তমানে ব্যাংকটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে আছে মাত্র দশমিক ১৮ শতাংশ শেয়ার।

এদিকে গতকাল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ২৭টি কোম্পানির ক্যাটাগরি পরিবর্তন করে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে কোম্পানিগুলোর শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হবে বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে এসব কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের নিষ্পত্তির সময় বেড়ে যাবে। ঋণ সুবিধাও পাওয়া যাবে না।

জেড ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া কোম্পানিগুলো হলো ন্যাশনাল ব্যাংক, বিডি থাই, সেন্ট্রাল ফার্মা, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, ন্যাশনাল টিউবস, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, জিএসপি ফাইন্যান্স, আনলিমা ইয়ার্ন, এটলাস বাংলাদেশ, বে লিজিং, লিবরা ইনফিউশন, লুব-রেফ বিডি, এসকে ট্রিমস, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, ভিএফএস থ্রেডস ডাইং, এনার্জিপ্যাক, ফরচুন সুজ, প্যাসিফিক ড্যানিমস, খুলনা প্রিন্টিং, এডভেন্ট ফার্মা, দেশ গার্মেন্টস, বিচ হ্যাচারি, ইন্দোবাংলা ফার্মা, ফার কেমিক্যাল এবং অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন।

জানা গেছে, বেশ কিছু সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করায় এসব কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির নির্দেশে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করেছে ডিএসই। এর আগে, গত ২০ মে যে কোনো কোম্পানির শেয়ার জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরে এসইসি নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়, তালিকাভুক্ত কোম্পানি শেষ লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ থেকে বা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির তারিখ থেকে পরপর দুই বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হলে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হবে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে ব্যর্থ হলেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে কোনো রিট পিটিশন বা আদালতে বিচারাধীন কোনো আইনি প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ এজিএম অনুষ্ঠিত না হওয়ার ক্ষেত্রে, অর্থাৎ উপ-বিচারের বিষয় বা জোরপূর্বক ঘটনা ঘটলে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ বছর সময় পর্যন্ত বিবেচনা করা যেতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত