পরিসংখ্যানের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি শিক্ষায়

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:৫৪ এএম

বিতর্ক থাকলেও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপ ও শুমারির গ্রহণযোগ্যতা ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেড়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। সম্প্রতি বিবিএসের তথ্য উপাত্ত ব্যবহারকারীদের নিয়ে জরিপ করেছে বাংলাদেশ গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (বিআইডিএস)। বিআইডিএসের চালানো জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৬৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ ব্যবহারকারী অফিশিয়াল পরিসংখ্যানের নির্ভুলতার সঙ্গে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং ২৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করে।

যদিও ২০২২ সালের বিবিএসের একই জরিপে এর উল্টো ফল এসেছিল। ওই বছরের জরিপে মোট তথ্য ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ সন্তুষ্ট থাকলেও, অসন্তুষ্ট হয়ে আরও তথ্য চেয়েছিলেন ৬৫ শতাংশ ব্যবহারকারী। গতকাল বিআইডিএসের এ জরিপটি প্রকাশ করে বিবিএস। এ জরিপে প্রায় ৫৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ ব্যবহারকারী অফিশিয়াল পরিসংখ্যানের সময়োপযোগিতা নিয়ে সন্তুষ্ট বলে দেখা গেছে। এ জরিপে মোট নমুনার আকার হলো ১ হাজার ৩৩৩। এর মধ্যে ২২ দশমিক ২৮ শতাংশ মহিলা উত্তরদাতা। বেশিরভাগ উত্তরদাতাদের বয়স ২৮ থেকে ৫৫ এর মধ্যে এবং গড় বয়স হলো ৪৫। সবচেয়ে সিনিয়র উত্তরদাতারা ৮৮, সবচেয়ে কম বয়সী ২১ বছর। তাদের গড় কাজের অভিজ্ঞতা ১৭ বছর।

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, প্রায় ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ তথ্য ব্যবহারকারী জনসংখ্যা, জনসংখ্যাগত এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ঘন ঘন ব্যবহার করে। তথ্য সংগ্রহের দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে আয় এবং দারিদ্র্য পরিসংখ্যান (৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ) এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যবহার হয় জাতীয় অ্যাকাউন্ট পরিসংখ্যান (৫৪ দশমিক ৯১ শতাংশ)।

তবে সবচেয়ে কম ব্যবহার হয় অপরাধ ও বিচার বিভাগীয় পরিসংখ্যান (৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার (১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ)।

জরিপ অনুযায়ী, দেশে বিবিএসের তথ্য ব্যবহারকারীর পরিসংখ্যানও বেড়েছে। ইউএসএস (ইউজার স্যাটিসফেকশন সার্ভে) ২০২২ এর তুলনায় ব্যবহারকারী বেড়েছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানগত ডোমেনের মধ্যে, শিক্ষার পরিসংখ্যান সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। ৭৩ দশমিক ২১ শতাংশ ব্যবহারকারী এই ডেটার সঙ্গে জড়িত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তথ্য ব্যবহার হয় জনসংখ্যা, এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান (৭২ দশমিক ১০ শতাংশ) এবং আয় দারিদ্র্য পরিসংখ্যান (৬৮ দশমিক ৫২ শতাংশ) তৃতীয় সর্বোচ্চ।

বিবিএসের এসব ডেটা ব্যবহার করার দ্বিতীয় প্রধান উদ্দেশ্য হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ (২৪.৪৯%)। পরিকল্পনা (২১.৯৫%) এবং মডেলিং বা পূর্বাভাস (১৯.৭৩%) ডেটা ব্যবহারকারীদের মধ্যে অপরিহার্য।

এসব তথ্য সংগ্রহের সিংহভাগই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নেয় ব্যবহারকারীরা। বিবিএস ওয়েবসাইট বা ডেটা পোর্টালে গিয়ে ৮৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ তথ্য সংগ্রহ করেছে, যেখানে ৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশ এটি প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে পেয়েছে। ৪১ দশমিক ২৬ শতাংশ বিনামূল্যে পেয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত