দ্রুত সংস্কারকাজ শেষে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব সংস্কারকাজ করা এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে নির্বাচন আয়োজন করবে সরকার। তাদের ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস এসব কথা বলেন। চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে রবিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে দেশে ফিরেছেন তিনি।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর তিন দিন পর নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতে যেসব শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের কথা উল্লেখ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিপ্লবের জন্য তরুণরা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছে। সরকারের নীতিনির্ধারণে তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করার বিষয়ে নিজের অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, এ ক্রান্তিলগ্নে সবচেয়ে বড় দাতা দেশ জাপানের সমর্থন চায় বাংলাদেশ। দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও গণতন্ত্রের ভিত স্থায়ী করার জন্য জাপানের সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা : প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৯তম অধিবেশন এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগদানের জন্য তার চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন। প্রধান উপদেষ্টা এবং তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী কাতার এয়ারওয়েজের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট গতকাল রবিবার ভোর ৩টা ৩২ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান। খবর বাসসের এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় (নিউ ইয়র্ক সময়) ফ্লাইটটি নিউ ইয়র্কের জেকেএফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দেয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ ১২টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সাইডলাইনে ৪০টি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন।
প্রধান উপদেষ্টা নিউ ইয়র্ক সময় শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া ছাড়াও ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
এ ছাড়া তিনি অন্যদের মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি এবং নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক শুফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
নিউ ইয়র্ক অবস্থানকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে অন্যদের মধ্যে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভনডের লিয়েন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে ব্লিঙ্কেন, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা ও ইউএসএইডের প্রশাসক সামান্থা পাওয়ার সাক্ষাৎ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন। তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক পৌঁছান।
