১৫ বছরে উন্নয়নের ন্যায্য হিস্যা পাননি শ্রমজীবীরা

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৪, ১২:২১ এএম

গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে যে উন্নয়ন হয়েছে শ্রমজীবীরা তার ন্যায্য হিস্যা পাননি। কাজের পরিবেশ উন্নত হয়নি, মজুরি যথোপযুক্ত নয়, এমনকি তারা অধিকার আদায়ে আন্দোলনও করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের নাজিয়া-সালমা হলরুমে এ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এ সময় অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সঙ্গে বৈঠকে এ সব কথা বলেছেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে কারণ হিসেবে শ্রমিকনেতারা উল্লেখ করেছেন শ্রমিকদের মজুরি যথোপযুক্ত নয়। সেই সঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাসস্থান, মাতৃত্বকালীন সুবিধাসহ যেসব ব্যবস্থা থাকার কথা, সেগুলোও যথেষ্ট নয়।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ করেছেন শ্রমিকনেতারা। যেমন ভবিষ্যৎ তহবিলসহ সামাজিক সুরক্ষার অন্য যেসব উপকরণ, সেগুলো যথাযথ নয়। আইনে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার থাকলেও তারা নির্বিঘ্নে তা করতে পারছেন না। সেই সঙ্গে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলো চালুর যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম-নীতির ব্যত্যয় ঘটছে; বড় বড় কায়েমি স্বার্থের প্রভাবে তা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে শিল্পক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সে বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সঙ্গে বৈঠকে শ্রমিকনেতারা নিজেদের আশা-আকাক্সক্ষার কথা বলেছেন। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, শ্রমিকদের এসব আশা-আকাক্সক্ষার বিষয় আমলে নেওয়া হবে।

শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠনের এক মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কমিটি অনুসন্ধান করে কী পেল এমন প্রশ্নের জবাবে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, প্রথমে কমিটির কাজের পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। সদস্যরা কে কোন কাজ করবেন, তা বণ্টন করা হয়েছে। ১১ জন মানুষ ২৩টি বিষয়ে কাজ করছেন। কে কোন বিষয়ে কাজ করছেন, তা প্রধান উপদেষ্টাকে জানানোর পর সাংবাদিকদের জানানো হবে।

এ ছাড়া সরকারি পরিসংখ্যানের যথার্থতা যাচাইয়ে তথ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে, যেমন আজ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা হলো। খাতওয়ারি আরও আলোচনা হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারী ও সাহায্যদাতাদের সঙ্গেও আলোচনা হবে। এর মধ্য দিয়ে যেসব তথ্য আসছে, এখন তা আত্মস্থ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর আমরা তরুণ উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের সমস্যা সম্ভাবনার কথাও আমরা শুনেছি। সেগুলো বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, মোদ্দাকথা হলো, বহুবিধ পদ্ধতির ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা বহুবিধ পদ্ধতির একটি অংশমাত্র। এ সবকিছুর সম্মিলিত ফলের ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্তে উপনীত হব। তখন সাংবাদিকদের তা জানানো হবে।

তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, কমিটি আশাবাদী। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরতে গত ২৮ আগস্ট দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।

শ্বেতপত্রে মোট ছয়টি বিষয়ে আলোকপাত করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ, সরকারি ব্যয় (সরকারি বিনিয়োগ, এডিপি, ভর্তুকি ও ঋণ), ঘাটতি বাজেট অর্থায়নের বিষয়াদি থাকবে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যে থাকবে উৎপাদন, সরকারি কেনাকাটা ও খাদ্য বিতরণ এবং বাহ্যিক ভারসাম্যের মধ্যে থাকবে রপ্তানি, আমদানি, প্রবাসী আয়, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিদেশি অর্থায়নের প্রভাব ও ঋণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত