এফবিসিসিআইয়ের প্রশ্রয়ে বেপরোয়া সিন্ডিকেট

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৪, ১২:২৩ এএম

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়েই সিন্ডিকেটের প্রভাবে অনেক নিত্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের বাজারমূল্য দ্বিগুণ, তিনগুণ বাড়িয়ে একটি মহল রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। তারা বেপরোয়া হয়েছে শুধু এফবিসিআইয়ের কারণেই।

সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বৈষম্যবিরোধী সংস্কার পরিষদ আয়োজিত ‘এফবিসিসিআইর সংস্কারবিষয়ক সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য এসব অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া নির্বাচনের আগে অধিভুক্ত সব অ্যাসোসিয়েশন এবং চেম্বারের নির্বাচন শেষ করার প্রস্তাব জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশনের বৈষম্যবিরোধী সংস্কার পরিষদ। এর পাশাপাশি ৮ দফা প্রস্তাব জানিয়েছেন তারা।

বক্তারা বলেন, গত দেড় দশকে এফবিসিসিআই কর্তৃক বাজার নিয়ন্ত্রণে উদাসীনতা এবং ব্যর্থতার কারণে সিন্ডিকেটের প্রভাবে অনেক নিত্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের বাজারমূল্য দ্বিগুণ, তিনগুণ বাড়িয়ে একটি মহল রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে।

তারা অভিযোগ করেন, এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্ব শুধুমাত্র কর্পোরেট ব্যবসায়ী ও কর্পোরেট হাউজগুলোর স্বার্থ রক্ষার কাজে ব্যস্ত ছিল, এখানে মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন যাবৎ এফবিসিসিআইয়ের সেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। গত ১৮ আগস্ট এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ পরিষদ সদস্যরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর পর্ষদ বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগের আবেদন করেন এবং সরকার গত ১১ সেপ্টেম্বর এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দেন।

এ সময় ৮ দফা সংস্কার প্রস্তাবগুলোর কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনের আগে এর অধিভুক্ত সব অ্যাসোসিয়েশন এবং চেম্বারের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

এই প্রস্তাবনার যৌক্তিকতার বিষয় উল্লেখ করে তারা বলেন, বিগত ১৫ বছরে অধিকাংশ চেম্বার এবং অ্যাসোসিয়েশনসমূহে সীমাহীন দলীয়করণ করা হয়েছে। অধিকাংশ চেম্বার এবং অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা ছাত্র-গণহত্যার সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন মামলার আসামি এবং অনেকেই পলাতক অবস্থায় রয়েছেন, ফলে বাণিজ্য সংগঠনগুলোতে এক ধরনের শূন্যতা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সত্যিকারের সৎ, যোগ্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের এফবিসিসিআইয়ের সদস্যভুক্তি অত্যন্ত জরুরি। এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনের পূর্বে এফবিসিসিআই অধিভুক্ত সব চেম্বার এবং অ্যাসোসিয়েশনগুলো বিলুপ্ত করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে।

সংস্কার বাকি প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে মনোনীত পরিচালক প্রথা সম্পূর্ণ বাতিল করা। সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং পরিচালক পদে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদ ছোট করা। সহসভাপতি সাতজনের স্থলে তিনজন করা।

পরিচালনা পর্ষদ ছোট করে চেম্বার গ্রুপ থেকে ১৫ জন পরিচালক এবং অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ২৫ জন পরিচালক নির্ধারণের জন্য সুপারিশ করা। এফবিসিসিআইসহ সব অ্যাসোসিয়েশন এবং চেম্বারে পরপর দুবার নির্বাচিত কর্মকর্তাদের কমপক্ষে একবার বিরতি গ্রহণ করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত