সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে লাগা আগুনে একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার মধ্যরাতে জয়শ্রী ইউনিয়নের শীমের খাল গ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন এমারুল মিয়া (৫০), তার স্ত্রী পলি আক্তার এবং তাদের চার সন্তান পলাশ মিয়া (৯), ফরহাদ (৭), ফাতেমা বেগম (৫) ও উমর ফারুক (৩)। এদিকে আগুন লাগার এই ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি অন্যকিছু, তা উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিআইবি)। জেলার পুলিশ সুপার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান বলেছেন, এ ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্যকিছু, সেটি উদঘাটনে পুলিশসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কাজ করছে।
নিহতদের মধ্যে এমারুল মিয়া পেশায় জেলে ছিলেন। তিনি হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। হাওর শুকিয়ে গেলে করতেন দিনমজুরের কাজ।
এলাকাবাসী এবং ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাতে হাওরে মাছ ধরে বাড়ি ফেরার পথে শীমের খাল গ্রামের বাসিন্দা জেলে সাইফুল ইসলাম আশ্রয়ণ প্রকল্পে এমারুল মিয়ার ঘরের ভেতরে টিনের ফাঁক দিয়ে দাউ দাউ করে আগুন জ¦লতে দেখেন। পরে সাইফুলের চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তখন এমারুল মিয়ার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। এরই মধ্যে ঘরটির সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে এমারুলসহ তার পরিবারের ছয় সদস্যকেই পুরোপুরি দগ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। কিন্তু কীভাবে এই আগুনের সূত্রপাত, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
জানা গেছে, জয়শ্রী ইউনিয়নের শীমের খাল গ্রামে সরকারি অর্থায়নে ২০২১ সালে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য টিনের ছাউনিসহ ৩৪টি আধাপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়। সেখানে চারটি পরিবারের বসবাস।
ধর্মপাশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আলী ফরিদ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে, পরে জানানো যাবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।’
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন জানান, পুলিশের তদন্তকারী দুটি সংস্থা পিবিআই এবং সিআইডি সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছেন। মরদেহগুলো ধর্মপাশা থানায় এনে রাখা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হবে।
ইউএনও গিয়াস উদ্দীন বলেন, ‘তদন্ত শেষ হলে বলা যাবে ঠিক কী কারণে এত মানুষ পুড়ে মারা গেল। এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
