পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে খোরশেদ আলম খাস্তগীরের নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গতকাল রবিবার রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগটি বাতিলের বিষয়ে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব খুরশেদ আলম পদত্যাগ করেছেন। গতকাল তার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক হাসান।
পেশাদার কূটনীতিক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাস্তগীর গত ২৫ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ডে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। নিয়োগের ১০ দিন পর গতকাল তার সেই নিয়োগ বাতিল করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিন বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি বিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক হাসান বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উপহাইকমিশনার খোরশেদ আলম খাস্তগীরের পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করা হলো।’
খাস্তগীরের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মালয়েশিয়ায় আন্দোলনকারীদের বিষয়ে নেতিবাচক অবস্থান নেওয়া ও মামলা দায়েরের অভিযোগ রয়েছে।
খোরশেদ আলম খাস্তগীর ২০০১ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। কূটনীতিক হিসেবে তিনি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসে কাজ করেছেন।
মেরিটাইম সচিব খুরশেদ আলমের পদত্যাগ : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব খুরশেদ আলম গতকাল মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখায় পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে জানা গেছে।
ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ মীমাংসার প্রক্রিয়ার মধ্যে বিশেষজ্ঞ হিসেবে ২০০৯ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয় অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলমকে। এরপর তাকে সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান হিসেবে রাখা হয়। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বিজয়ের যে আইনি প্রক্রিয়া তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন হয়, যা ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল। পররাষ্ট্র সচিব কর্মস্থলের বাইরে থাকলে জ্যেষ্ঠ হিসেবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করতেন এই কর্মকর্তা। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মাসুদ বিন মোমেনকে বাদ দেওয়ার পর কয়েক দিনের জন্য পররাষ্ট্র সচিবের ‘রুটিন’ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল খুরশেদ আলমকে।
