প্রকল্পের গাড়ি কোথায় খোঁজা হবে

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৪, ০৫:৫৫ এএম

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সাতটি প্রকল্পের শুধু মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। চারটি প্রকল্পে নতুন করে ২৪ হাজার ৪১২ কোটি টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৭ হাজার ৭৪৬ কোটি ৬৬ লাখ, প্রকল্প ঋণ থেকে ১৬ হাজার ১২ কোটি ৩৩ লাখ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে দেওয়া হবে ৬৫৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। গতকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একনেক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বেলা সাড়ে ১১টায় একনেকের বৈঠক শুরুর পর ৩টায় শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পের গাড়ি কোথায় যায় এবং একজন অফিসার কয়টা করে জিপগাড়ি ব্যবহার করেন এসব খুঁজে বের করা হবে। এজন্য একনেক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, জেলা-উপজেলাসহ সারা দেশে সরকারি গাড়ি আছে তার একটি তালিকা করা হবে। দেখা হবে কোন গাড়ি, কোথায় আছে, কতদিন কার্যকর থাকে সব তথ্য দিতে বলা হয়েছে। সারা দেশে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কত গাড়ি আছে, তার হিসাব নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ গাড়িগুলো কী অবস্থায় আছে, তাও জানাতে হবে। উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এ বিষয়ে প্রতিবেদন উপদেষ্টা পরিষদে পেশ করবেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাব আছে। আমরা এখন বিবিএসের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিয়েছি। তারা যে হিসাব নিয়ে আসে আমি আইনগতভাবে শুধু স্বাক্ষর করা ছাড়া আর কিছুই দেখি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ কম। এদিকে আমরাও অনেক বেছে এবং যাচাই-বাছাই করে প্রকল্প নিচ্ছি। আবার যেসব রাজনৈতিক প্রকল্প আছে কিছু এখনো শুরু হয়নি সেগুলো নেওয়া হচ্ছে না। যেসব রাজনৈতিক প্রকল্পের কাজ শেষের পথে সেগুলো প্রয়োজনীয়তা না থাকলে শেষ করা হচ্ছে। ফলে সরকারি বিনিয়োগও কম হচ্ছে। এর কারণে অর্থ প্রবাহ কমে গেছে। গ্রামে মানুষ বলে ব্যবসা ভালো নয়। সেই সঙ্গে আগে রাজনৈতিক নানা কার্যক্রম ছিল, মিছিল, মিটিং সমাবেশ হলে ট্রাক ভাড়া করে লোক আনা হতো। এতে অর্থ প্রবাহ বাড়ত। এখন তো সেসব কার্যক্রম নেই। আমি বলছি না আবারও সেসব চালু করা হবে।’

চলতি প্রকল্পগুলো সংশোধনের কারণে কিছুটা সময় লাগছে উল্লেখ করে পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কম হওয়ায় এগুলোর অর্থ প্রবাহ বাড়বে না। অর্থ প্রবাহ বাড়াতে আগের প্রকল্পের কাজ এগোতে হবে। নতুন কিছু প্রকল্প হাতে নিতে হবে। তবে আগে থেকে চলমান প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির আগে, ব্যয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একনেক সভায় জানানো হয়, ১৯ হাজার ৫৬ কোটির সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ : এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ৪২৩ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। নির্বাচিত তিনটি অর্থনৈতিক গ্রোথ করিডরের অন্তর্ভুক্ত ছয়টি সিটি করপোরেশন ও ৮১টি পৌরসভার জলবায়ু সহনশীল নগর অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিষেবাসমূহ বৃদ্ধি করতে ৫ হাজার ৯০১ কোটি টাকা ব্যয়ে রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট (আরইউটিডিপি) প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটিতে ৪ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর একটি রেল-কাম-রোড সেতু নির্মাণে ১১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এটিতে ৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে কোরিয়া। একনেক সভায় মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২৪ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বাড়ছে ৬ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও তিন বছর মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে, মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য একনেকে আরও সাতটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সেগুলো হলো কুষ্টিয়া জেলায় নতুন সার্কিট হাউজ নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প, ভূঞাপুর-তারাকান্দি জেলা মহাসড়ক (জেড-৪৮০১) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প, বৈরাগীপুল (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক (জেড-৮-৯১০) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প, বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের (এন-৮০৯) বরিশাল (চরকাউয়া) থেকে ভোলা (ইলিশ ফেরিঘাট) হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প এবং কুলাউড়া-পৃথিমপাশা-হাজীপুর-শরীফপুর (জেড-২৮২২) সড়কের ১৪তম কিলোমিটারে পিসি গার্ডার সেতু (রাজাপুর সেতু) নির্মাণ ও ৭.৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প।

এ ছাড়া শিল্প ও শক্তি বিভাগের দুটি প্রকল্প একনেকে মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রজেক্ট ফর সিক্স এনওসিএস ডিভিশন আন্ডার ডিপিডিসি (বিশেষ সংশোধিত) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন : ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন প্রকল্প।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত