সালি আল হারবি ১৭ বছর বয়সী এক অদম্য কিশোরী। সৌদি আরবের প্রদেশ কাসিম শহরে জন্ম তার। তিনি সৌদি রাজ্যের প্রথম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। রসায়ন ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিশেষ গবেষণার জন্য জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। তিনি মুলহুম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এটি একটি যুব প্ল্যাটফর্ম, এর উদ্দেশ্য হলো মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকা এবং স্বেচ্ছাসেবক কাজের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। মাত্র ১২ বছর বয়সে রসায়নের প্রতি এই কিশোরী বিজ্ঞানীর মুগ্ধতা শুরু হয়েছিল। সালি আল হারবি বলেন, ‘রসায়নে প্রথম নারী নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ম্যারি কুরি দ্বারা আমি ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। আমি রসায়নে সৌদির প্রথম নারী নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হতে চাই।’
সালি আল হারবি প্রিন্স সুলতান সেন্টার ফর কার্ডিয়াক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারিতে সর্বকনিষ্ঠ প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, কিং আবদুল আজিজ সিটি ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে পরিচালিত এক বিজ্ঞান কর্মশালায় রসায়ন ও রোবটিক্সে পাঁচটি গবেষণা প্রকল্প সম্পন্ন করেন। এর মধ্যে একটি প্রকল্প হলো ফটোইলেকট্রিক ক্যাটালিস্টের অন্তর্ভুক্ত, যা কার্বন ডাই অক্সাইডকে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে।
মুলহুম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য তিনি একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেন। বিশেষ করে এ সংক্রান্ত কাজে বিশেষ ভূমিকা রাখায় একটি পুরস্কার বিতরণী সংস্থা থেকে তাকে সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী হিসেবে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর স্পন্সর ছিলেন প্রিন্স ফয়সাল বিন মিশাল। এই পুরস্কারের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিত লাভ করেন। তিনি বলেন, ‘এই পুরস্কারটি আমার প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফাউন্ডেশনটি আমি শুরু করেছি ১১ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের নিয়ে কাজ করার উদ্দেশে।’
সালি আল হারবি প্রতিদিন রুটিন মেনে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার গবেষণার লক্ষ্য হলো, নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য উদ্ভাবনী পদ্ধতিগুলো অন্বেষণ করা এবং স্থানীয় ও বিশ্বব্যাপী সেগুলোর বিকাশ ঘটানো।’ তরুণদের প্রতি তার উপদেশ হলো, ‘সুযোগকে কাজে লাগান, নিজেকে গড়ে তুলুন, স্থানীয় প্রোগ্রাম ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করুন এবং দক্ষতা বিকাশ করুন।’সূত্র : আরব নিউজ
