বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দিল্লি শব্দটা বেশ স্পর্শকাতর। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে এসে এখানেই কোথাও আছেন, পার্কে ঘুরে বেড়িয়েছেন এমন খবরও এসেছে গণমাধ্যমে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লি অর্থাৎ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কী ভাবছে, কী করছে এসব নিয়েও বড় বড় বিশ্লেষণ ছাপা হচ্ছে দেশি-বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে। তবে রাজনীতির বেড়াজাল সরিয়ে, নিখাদ ক্রিকেটের হিসাবে বাংলাদেশের জন্য দিল্লি পয়মন্ত। এই মাঠে দুটো ম্যাচ খেলে দুটোই জিতেছে বাংলাদেশ, ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে। সাফল্যের হার শতভাগ। তাই দিল্লিতে ফের যখন ভারতের সঙ্গে দেখা, তখন জয়ের আশা তো করাই যায়। বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স মাথায় রাখলে অবশ্য জয়ের পক্ষে বাজি ধরে হারতেই হবে। গোয়ালিয়রে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ১২৭ রানে, যে উইকেটটা স্থানীয় আয়োজকদের মতে ছিল ব্যাটিং স্বর্গ। ভারত রানটা তাড়া করেছে ৪৯ বল হাতে রেখে, তাতেই বোঝা যায় দাবিটা মিথ্যা ছিল না। ভুল ছিল বাংলাদেশের অঙ্কে। আজীবন ১৪০ রানকেই জয়ের জন্য যথেষ্ট ভেবে দেশে টি-টোয়েন্টি খেলে আসা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা তো আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মেলাতেই অপারগ। যেটা শান্ত ম্যাচ শেষে স্বীকারও করেছেন, ‘সামর্থ্য অবশ্যই আছে, তা আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু স্কিলের উন্নতিটা কীভাবে হবে? যদি দেখেন শেষ ১০ বছর ধরে আমরা এ রকমই ব্যাটিং করি। মাঝে মধ্যে হয়তো ভালো ব্যাটিং হচ্ছে। সো এটার জন্য আমরা হোমে যখন অনুশীলন করি সেখানে উইকেটের পরিবর্তন আনতে হবে। কিছু কিছু জায়গায় পরিবর্তন জরুরি।’
কারণ আমরা যখন হোমে খেলি তখন ১৪০-৫০ এরই উইকেট হয়। সো ব্যাটাররা ওইটা জানে কীভাবে ১৫০ করতে হবে কিন্তু ওইটা জানে না যে কীভাবে ১৮০ করা যাবে। তো আমাদের ওই ধরনের উইকেটে অনুশীলন করলে আরেকটু উন্নতি হবে। কিন্তু শুধু উইকেটের দোষ দেব না এখানে মানসিকতার ব্যাপারও থাকে, স্কিলের ব্যাপারও থাকে।’
কাল সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। যদিও সেটা ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনের চেয়ে তার বিদায় ঘোষণার মঞ্চেই পরিণত হয়েছিল। ব্যক্তিগত নানান প্রশ্নের ভিড়ে দল নিয়ে তার পর্যবেক্ষণটাও একই রকম, ‘বোলিং ইউনিট হিসেবে আমি বলব আমাদের পেস এবং স্পিন উভয় বিভাগেই বৈচিত্র্য আছে। তারা গত বেশ কয়েক বছর ধরে ভালো করে যাচ্ছে। তবে আমাদের ব্যাটিংটা সবশেষ ম্যাচে ভালো হয়নি আর বোলিংটাও ভালো হয়নি। তবে একম্যাচ দেখেই তাদের ওপর আস্থা হারানো ঠিক হবে না। আমাদের খারাপ সময়টা থেকে বের হয়ে আসতে হবে আর জয়ের জন্য চেষ্টা করতে হবে।’
কাল ভারতীয় দলের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা আর্শদীপ সিং বলেছেন, ‘এই মাঠের স্কোর দেখলে উইকেট দেখার দরকার পড়ে না।’ বোলারদের জন্য দিল্লির উইকেট আসলেই ভয়ংকর। আইপিএলের সবশেষ মৌসুমে এই মাঠে হয়েছে ৪টা ম্যাচ। সবগুলা ম্যাচে আগে ব্যাট করা দল ২০০’র বেশি রান করেছে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এই মাঠে ২০ ওভারে ২৬৬ রান করেছিল, সেই ম্যাচে ট্র্যাভিস হেডের সঙ্গী অভিষেক শর্মাও কম তা-ব চালাননি। অভিষেক ভারতীয় দলেও আছেন। আছেন নীতিশ রেড্ডিও। তাদের সামনে আইনরিখ নরকিয়া, কুলদীপ যাদবরাও পাত্তা পাননি।
এমন ব্যাটিং স্বর্গেও ভয় ধরাচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। কারণ যে দলের অধিনায়ক নিজেই বলেন যে তার দলের ব্যাটসম্যানরা ১৮০ রান করতে জানেন না, তারা ২০০’র উইকেটে কী করতে পারবেন!
