মৃত্যুর সময় শয়তানের ধোঁকা থেকে নিরাপদ থাকার বিষয়ে কোরআন হাদিস থেকে কতিপয় উপায় সম্পর্কে জানা যায়। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় উপায় হলো ইমানের ওপর মজবুত থাকা। আর দ্বিতীয় হলো ইস্তিকামাত অর্থাৎ ইমানের ওপর অবিচল থাকা। ইস্তিকামাতের একাধিক স্তর রয়েছে। যে যত ওপরের স্তরে থাকতে পারবে সে শয়তানের ধোঁকা থেকে তত বেশি নিরাপদ থাকবে। ইস্তিকামাতের সর্বনিম্নের স্তর হলো, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইমানের ওপর অটল থাকা। ইস্তিকামাতের সর্বোচ্চ স্তর হলো, সর্বপ্রথম গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং তাকওয়ার ওপর চলা। আর ইস্তিকামাতের মধ্যম স্তর হলো, যদি কখনো অবহেলার কারণে গুনাহে লিপ্ত হয়েও যায়, তখন আল্লাহর আজাবের কথা খেয়াল করে সঙ্গে সঙ্গে তওবা করা।
মাসয়ালা : মুমূর্ষু ব্যক্তিকে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ পড়তে না বলা উত্তম, বরং তার কাছে বসে যে কেউ তা পাঠ করবে। কারণ হয়তো সে মৃত্যুর কষ্টের কারণে পড়তে অস্বীকার করতেও পারে। ফলে তার ইমানই চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। (কানজুল উম্মাল ৮/৭৮) হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন তোমরা মৃত্যুশয্যায় শায়িত ব্যক্তির কাছে বসো, তখন তাকে বারবার কালেমা পড়ার কথা বলে বিরক্ত কোরো না। কারণ সে কখনো কালেমা মুখে পড়ে ফেলে বা কখনো হাতে ইশারা করে অথবা কখনো অন্তরে বলে, এটাই যথেষ্ট। (কানজুল উম্মাল ৮/৭৯)
মাসয়ালা : যখন কোনো ব্যক্তির বাকশক্তি বন্ধ হয়ে যায় বা অসুস্থতার কারণে বেহুঁশ হয়ে যায় এবং কালেমা পড়তে অক্ষম হয়, তখন তার পূর্বের অবস্থার ওপর বর্তমান অবস্থা বিবেচিত হবে। যদি সে পূর্বে কালেমা পাঠকারী হয় তবে এখনো কালেমা পাঠকারী বিবেচিত হবে। (মাশারেক ৭২)
মাসয়ালা : যদি মৃত্যুশয্যায় শায়িত ব্যক্তি একবার ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ পড়ে ফেলে, তখন পুনরায় তা পড়ার বা মুখে বলার প্রয়োজন নেই। তবে কালেমা পড়ার পর যদি ওই ব্যক্তি কোনো কাজে লিপ্ত হয় তখন পুনরায় পড়া উচিত।
গ্রন্থনা : সানজিদা জাহান শাম্মী
