শিল্পসৃষ্টির অবিরত তাড়নায় হাতের কাছে যা পাচ্ছেন তা দিয়েই ফুটিয়ে তুলছেন নান্দনিক দৃশ্যপট। হয়তো বসে আছেন চায়ের দোকানে, হাতের চা ঢেলে তৈরি করলেন রবীন্দ্রনাথ বা নজরুলের মুখাবয়ব। বাড়ির উঠোনে বসে আছে অলস দুপুরে, গাছের পাতা দিয়ে তৈরি করলেন পাখি ও মুরগি। হাতের কাছে যদি খাতা আর কলম থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। কয়েক টানে এঁকে ফেললেন প্রসিদ্ধ কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রাকৃতিক দৃশ্য। প্রাণ-প্রকৃতি আর শিল্পের পিপাসায় এমনই আসক্ত শিল্পী আর. করিম। এই তরুণ শিল্পীর পুরো নাম রেজাউল করিম। কিন্তু ছবির স্বাক্ষরের নামটিই এখন তার শিল্পী নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমান সক্রিয় তিনি। ছবি আঁকার পরে বা শিল্প সৃষ্টির পরে তার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন, কখনো-সখনো চলমান চিত্রও।
শিল্পের সঙ্গে যার এমন নিবিড় পথচলা তিনি কিন্তু ছবি আঁকার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পাননি। আঁকাআঁকির শুরু সেই ছোটবেলা থেকে। নার্সারি ক্লাসে অন্যান্য বইয়ের সঙ্গে যে ছবি আঁকার বইটি পেয়েছিলেন, সেটিই ছিল তার প্রথম অনুপ্রেরণা, হাতেখড়ির উপকরণ। আর. করিম এখন পড়াশোনা করছেন মাস্টার্স প্রথম বর্ষ, সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে। পাশাপাশি চলছে শিল্পসৃষ্টি। তার হাতে মুখাবয়ব রূপ পেয়েছে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, জয়নুল আবেদীন, ভূপেন হাজারিকা, মান্না দে, বঙ্গবন্ধু, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, সৈয়দ শামসুল হক, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সেলিম আল দীন, হুমায়ুন ফরিদী, হুমায়ূন আহমেদ, আইয়ুব বাচ্চু, আনিসুল হক ও শিমুল মুস্তফার। তার আঁকা ছবি কবি নির্মলেন্দু গুণ ব্যবহার করেছেন তার ‘কবিতাকুঞ্জ’ বইয়ে। নিয়মিত প্রিয় কবি লেখক শিল্পী গায়ক-গায়িকার জন্মদিনে ছবি এঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভকামনা জানান।
শিল্পী মাত্রই চান তার শিল্পের স্থায়িত্ব। কিন্তু চায়ের দোকানে বেঞ্চের ওপর চা দিয়ে যে ছবি আঁকা হয়, তা কি স্থায়ী হতে পারে? দোকানির ন্যাকড়ার টানে তা কি মিলিয়ে যায় না? এদিক থেকেও চিন্তাভাবনা ব্যতিক্রম আর. করিম। তিনি জানান, ‘আমার ছবি আঁকাতেই আনন্দ। স্থায়িত্বের চিন্তা করে ছবি আঁকা থেকে বিরত থেকে সৃষ্টির আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে চাই না। সংরক্ষণ বলতে ক্যামেরায় ছবি তুলে রাখি। আসলে আমার এ পথচলায় আনন্দের পরিমাণ এত, যার কাছে এসব শিল্প সংরক্ষণ করতে না পারার খারাপ লাগা ঠুনকো মনে হয়।’
ভবিষ্যতে শিল্পকেই জীবনের পাথেয় করার ইচ্ছা আর. করিমের। সম্প্রতি তার তার আঁকা জুলাই বিপ্লবের বিভিন্ন দৃশ্যে ভরে উঠেছে শহরের দেয়ালগুলো। তেমনি একইভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষেও করেছেন দেয়াললিখন।
ব্যক্তিজীবন নিয়ে খুব বেশি উচ্চাশা নেই। বললেন, ‘আমি আমার মতো করেই জীবনটাকে যাপন করতে চাই। এই সমাজের জন্য অবশ্য এই চাওয়া পূরণ করা কঠিন। কেননা, পরিবার বা আশপাশের মানুষের প্রত্যাশা তো অনেক।’
