বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গত ৪ আগস্ট নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন চট্টগ্রামের বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাউসার মাহমুদ (২২)। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কাউসারের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নে। তার বাবা আবদুল মোতালেব। তারা বন্দর নগরীর চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ রোডে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। মোগলটুলীতে তাদের মুদির দোকান রয়েছে। রবিবার রাতে কাউসারের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর গ্রামের বাড়ি থেকে অনেক আত্মীয়স্বজন এসেছেন মোগলটুলীতে। সেখানকার আবদুর রহমান মাতব্বর জামে মসজিদের পাশে কবরস্থানে কাউসারকে দাফন করার কথা।
কাউসার পড়ালেখা শেষ করে এক দিন বড় মানুষ হবে এমনটাই স্বপ্ন দেখছিলেন তার বাবা আবদুল মোতালেব। গতকাল সোমবার দুপুরে মোবাইল ফোনে কল করে সংবাদকর্মী পরিচয় দিলে অপর প্রান্তে ডুকরে কেঁদে ওঠেন মোতালেব। তিনি বলেন, ‘তারে নিয়া অনেক স্বপ্ন ছিল আমার। আশায় ছিলাম হাসপাতালের শয্যা থেকে ফিরে এসে আমাকে আব্বু বলে ডাক দেবে। এখন কিন্তু সব শেষ।’
জানা গেছে, নগরের নিউ মার্কেট এলাকায় ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন কাউসার। গত ৪ আগস্ট নিউ মার্কেট এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের ছোড়া গুলির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কাউসার। এ সময় ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীদের বেধড়ক পিটুনিতে কিডনিতে আঘাত পান। কিন্তু রাতে বাসায় গিয়ে পরিবারের কাউকে কিছুই জানাননি কাউসার। সেদিন রাতে খিঁচুনি আসে তার। পরদিন ৫ আগস্ট নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় কাউসারকে। চিকিৎসকরা জানান, মারধরে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত কাউসারের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। দুই সপ্তাহ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন কাউসার। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে কাউসারকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যাওয়া হয়। অবশেষে ৭০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত রবিবার রাতে মারা যান কাউসার মাহমুদ।
গত রবিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্বাস্থ্যবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন চট্টগ্রাম বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাউসার মাহমুদ। উত্তাল সেই আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছোড়া গুলি তার শরীরে লাগে। দীর্ঘদিন লড়াই করে ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাউসার মাহমুদ শাহাদাতবরণ করেন।
