ভাঙা হবে সিন্ডিকেট প্রয়োজনে গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:৫৮ এএম

সম্প্রতি দেশের বাজারগুলোয় ভোগপণ্যের দামে অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন)। কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে আলু, চাল ও ডিমের মতো অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যে মোটা অঙ্কের মুনাফা লুটছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। গত এক মাসে সরকারের তরফে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলেও লাগাম পরানো যায়নি ঊর্ধ্বগতির দ্রব্যমূল্যে। এমন পরিস্থিতিতে দামের লাগাম টানতে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার পৃথক দুই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি বাজার অস্থিতিশীল করে তোলা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেপ্তারেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

গতকাল সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘একের পর এক অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবিলা করছি। দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত। বন্যায় অনেক ফসল নষ্ট হয়েছে, যে কারণে শাকসবজির দাম বেশি। কিন্তু অন্য পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে এখানে সিন্ডিকেটের একটা বড় প্রভাব আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য আমরা কাজ করছি। কিন্তু ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনকে দুর্বল করা হয়েছে। করপোরেটদের সঙ্গে আগের সরকারের একটা যোগাযোগ থাকার কারণে এটাকে দুর্বল করা হয়েছে। তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, এটা কার্যকর নয়। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার হার্ডলাইনে (কঠোর অবস্থান) যাবে। সরকারের কাছে তথ্য আছে, অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠান ইচ্ছা করে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে সরকার তাদের গ্রেপ্তার করবে।’

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আগে যেমন ওনাদের একটা জেল দেওয়ারও ক্ষমতা ছিল আইনে। ব্যাপারগুলো এমনভাবে নষ্ট করা হয়েছে, এটা টাইম নেবে। আইন সংশোধন করতে হবে, শক্তিশালী করতে হবে। কিন্তু এর আগে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের হার্ডলাইনে যেতে হবে। না হলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’

চাঁদাবাজির ও সিন্ডিকেটের বিষয়ে উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আগে যে সিন্ডিকেট ছিল, সেটা আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ন্ত্রণ করত। কিন্তু সিন্ডিকেটের ভেতরে তো ব্যবসায়ীরাই বসে ছিলেন। তারা এখনো রয়ে গেছেন। তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ বাঁচাতে কোনো কোনো রাজনীতিবিদের সঙ্গে লিয়াজোঁর মাধ্যমে সিন্ডিকেট টিকিয়ে রেখেছেন। বিষয়টি আমরা শনাক্ত করছি। সেটা অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করছি।’

এদিকে ‘কৃষিপণ্য ওএমএস কর্মসূচি ২০২৪-এর উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সে সময় অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে সরকার।’

এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দ্রব্যমূল্যকে সহনীয় পর্যায়ে আনতে সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

রাজধানীর হেয়ার রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির পেছনে দায়ী সিন্ডিকেট কেন ভাঙা যাচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-প্রেস সচিব বলেন, সরকার সিন্ডিকেট ভাঙার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে তাদের শনাক্ত করারও কাজ চলছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কারা পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিচ্ছে বা মনোপোলি ব্যবসা করছে এসব তথ্য সরকারকে জানালে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

কারখানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারও কাছে কেউ চাঁদা চাইলে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করবেন। পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। শুধু গার্মেন্ট নয়, যেকোনো ক্ষেত্রে কেউ যদি চাঁদাবাজি কিংবা কোনো ধরনের অপরাধ করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের অগ্রাধিকার হলো জুলাই হত্যাকান্ডের বিচার নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কার ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে যে সংলাপ হয়েছে, সেখানেও কিন্তু সব নেতৃবৃন্দ এই জুলাই হত্যাকা-ের বিচারকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত