জরুরি বৈঠক নেতানিয়াহুর

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৪০ এএম

গাজায় মানবিক সহায়তা সম্প্রসারণের জন্য জরুরি বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে মানবিক সহায়তা সরবরাহ প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে ইসরায়েলকে এক মাসের সময় বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিলে তেল আবিবে পাঠানো সামরিক সহযোগিতা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এ সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার জরুরি বৈঠকে বসেন নেতানিয়াহু।

এ বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, গাজায় সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি তেল আবিব। আগামী রবিবার দেশটির নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের সদস্যদের সঙ্গে আরেক দফা আলোচনায় বসতে পারেন নেতানিয়াহু। গাজায় ত্রাণ সহায়তা নিয়ন্ত্রণকারী ইসরায়েলি বাহিনী গত বুধবার জানিয়েছে, জর্ডানের দেওয়া ৫০টি ত্রাণবাহী ট্রাক উত্তর গাজায় প্রবেশ করেছে। এসব ট্রাকে খাবার, পানি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ছিল।

গাজায় ত্রাণ ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রবেশে ভোগান্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে জাতিসংঘ। অক্টোবরের ২ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত গাজার উত্তরাঞ্চলে কোনো খাদ্যসহায়তা পাঠানো যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার ত্রাণবাহী গাড়ি অবরুদ্ধ গাজায় প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এমনকি জাতিসংঘের ত্রাণবাহী গাড়িতে গুলি করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

তবে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি। গত বুধবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের শীর্ষ সম্মেলন শেষে এ কথা জানান তিনি। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি বিষয়ে গত তিন থেকে চার সপ্তাহে কোনো বৈঠক হয়নি। কারও দিক থেকে তেমন আগ্রহও দেখা যায়নি। সব পক্ষই যেন মৌনব্রত পালন করছে। আর আমরা চক্রাকারে একই পথে ঘুরছি।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার নেতৃত্বে আছেন শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি। যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও কুয়েত উপত্যকাটিতে শান্তি ফেরানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করে এলেও, কার্যত সেটি আলোর মুখ দেখেনি। এদিকে গাজার বিভিন্ন অঞ্চল ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। উত্তর গাজার জাবালিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থীশিবির হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছে। এর পাশাপাশি সিরিয়া ও ইয়েমেন লক্ষ্য করেও বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সানা এ খবর জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত