নানা জটিলতায় পিছিয়ে এসএমইরা

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৪, ১২:২৬ এএম

এসএমই উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থান সুযোগ তৈরি করছেন ঠিকই, তবে উৎপাদিত পণ্যের মূল্য সংযোজনে এ খাতের ভূমিকা এখনো আশানুরূপ নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি আশরাফ আহমেদ। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে অর্থায়ন প্রাপ্তির জটিলতা, দক্ষতার অভাব, রাজস্ব নীতিমালা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে পিছিয়ে থাকার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে দেশের তরুণ শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে বিশেষ করে সেবা খাতের বিকাশ একান্ত অপরিহার্য।

গতকাল ডিসিসিআইতে ‘এসএমই নীতিমালা ২০১৯-এর সংস্কার : পরিপ্রেক্ষিত টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, সিএমএসএমই খাতের সার্বিক উন্নয়নে ‘কুটির, ক্ষুদ্র, মাঝারী’ উদ্যোক্তাদের সংজ্ঞায় একান্ত অপরিহার্য, সেই সঙ্গে সরকারের অন্যান্য নীতিমালায়ও সেই সংজ্ঞার অনুসরণ করা আবশ্যক। এ ছাড়া ব্যবসায়িক কাজে সম্পৃক্ত সব ধরনের লাইসেন্স প্রদান ও নাবায়ন প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল কার্যক্রমের আওতায় আনায়ন, রাজস্ব কাঠামোর সংস্কার, শুল্ক ব্যবস্থাপনার সহজীকরণ, লজিস্টিক অবকাঠামোর উন্নয়ন, অর্থায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, এসএমইদের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে দক্ষতা বাড়ানো ও পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিতে হবে।

সেমিনারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সলিম উল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক মানের একটি এসএমই নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ খাতের সাবির্ক বিকাশের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এসএমইদের উন্নয়নে নীতিমালা থাকলেও, সেটি বাস্তবায়নে ইপিবির মতো অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোর অংশগ্রহণ একান্ত অপরিহার্য, কারণ মন্ত্রণালয় নীতি প্রণয়ন করলেও মূলত অধিদপ্তরগুলো মাঠপর্যায়ে সেগুলোর বাস্তবায়ন করে থাকে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে ইপিবি কাজ করছে এবং এক্ষেত্রে এসএমইদের আরও বেশি হারে সম্পৃক্ত করতে হবে। 

আনোয়ার হোসেন জানান, ইপিবির পক্ষ থেকে ‘কান্ট্রি অব অরিজিন (সিও)’ সার্টিফিকেশন অনলাইনে দেওয়ার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে, আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য আমাদের সামগ্রিক রাজস্ব কাঠমো বেশ জটিল।

বিসিকের পরিচালক কাজী মাহবুবুর রশিদ, দেশে উদ্যোক্তা উন্নয়নে সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় একান্ত অপরিহার্য। এসএমইদের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি বিসিককে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসেন জানান, ‘মাইক্রোক্রেডিট ফাইন্যান্সিং ইনস্টিটিউট’গুলোর মাধ্যমে দেশের মোট এসএমইর ৭০ শতাংশই ঋণ পেয়ে থাকে, যার ৯০ ভাগই নারী উদ্যোক্তা। ঋণ প্রদান প্রক্রিয়ার সহজীকরণের পাশাপাশি দুর্নীতি হ্রাসে তিনি অটোমেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত