আজ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৪ পালিত হবে। প্রতিদিন সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় মৃত্যু এখন প্রতিদিনের সংবাদ শিরোনাম। টেলিভিশনে খবর দেখলে কিংবা পত্রিকার পাতা খুললে সড়ক দুর্ঘটনার খবর দেখে বিষন্ন হওয়া ছাড়া উপায় নেই। যান্ত্রিক যুগের মানুষ ধেয়ে চলছে যান্ত্রিক গতিতে। সেই যান্ত্রিক যানের তলায় পড়ে আবার জীবনও দিতে হচ্ছে। কর্মব্যস্ত মানুষের ছুটোছুটি স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাটে, যন্ত্র দানবের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ দিতে হচ্ছে সেই আবিষ্কারক মানুষকে। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। পথচারী থেকে শুরু করে সব নাগরিকের দায়িত্ব। সবাইকে নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
নিরাপদ সড়ক উপহার দেওয়া আমাদের সবার ইমানি দায়িত্বও বটে। কেননা জননিরাপত্তার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় ইসলাম। আল্লাহতায়ালা আমাদের মানুষ বানিয়েছেন। আর আমাদের বেঁচে থাকার জন্য তিনি এ বিশ্বকে অসংখ্য নেয়ামত ও অফুরন্ত কল্যাণে সাজিয়েছেন। পৃথিবীতে সুশৃঙ্খল ও আরামদায়কভাবে জীবনযাপনের জন্য আমাদের দিয়েছেন অজস্র নেয়ামত সম্ভার। আর তারই ছোট্ট একটি দৃষ্টান্ত হলো আজকের আধুনিক যানবাহন ব্যবস্থাপনা। বর্তমান সময়ে যানবাহন আমাদের জীবনের অপরিহার্য একটি অংশ। এটি সমাজ ও জীবনে এমনভাবে মিশে গেছে, যার কোনো বিকল্প নেই। নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা এ ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। প্রত্যেক নাগরিকেরই নিরাপদে-নির্বিঘেœ চলাফেরা ও ভ্রমণ করার অধিকার রয়েছে।
সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং গণপরিবহনের যথাযথ মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে মৌলিক দিকনির্দেশনা বিবৃত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ইমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা আছে, এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান শাখা হলো, এ কথার স্বীকৃতি দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আর সবচেয়ে নিচের শাখাটি হলো রাস্তায় কোনো কষ্টদায়ক বস্তু থাকলে তা সরিয়ে দেওয়া। আর লজ্জাও ইমানের একটি শাখা। (সুনানে নাসায়ি) নিজেরা রাস্তা দখল করে দোকানপাট ও বাড়িঘর করলে, রাস্তাকে আবর্জনার স্তূপ বানালে কিংবা যত্রতত্র মালামাল রাখলে, গাড়ি পার্কিং করলে, বেপরোয়া গাড়ি চালালে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি বা অপরিপক্ব ড্রাইভার রাস্তায় নামালে, আইন না মেনে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারের চেষ্টা করলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হলে আগে নিজেদের সচেতন হতে হবে।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে আরেকটি করণীয় হলো, মানুষের বিপদে এগিয়ে আসা, কেউ দুর্ঘটনার শিকার হলে কিংবা ছিনতাইকারীর খপ্পরে পড়লে বা অন্য যেকোনো ধরনের বিপদে পড়লে সাধ্যমতো তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। কারণ একজন মুসলমান তার অপর মুসলমান ভাইকে কখনো বিপদে ফেলে রেখে যেতে পারে না।
ইসলামে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব স্তরের মানুষের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তার বিধান নিশ্চিত করা হয়েছে। এ জন্য ইসলাম প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও বিধিবিধানও প্রণয়ন করেছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘রহমানের বান্দা তারাই যারা পৃথিবীতে অত্যন্ত বিনম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন অজ্ঞ ও জাহেলরা তাদের (অশালীন ভাষায়) সম্বোধন করে তখন তারা বলে সালাম।’ (সুরা ফোরকান ৬৩)
