ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ বন্ধ রেখে ৩ বছর ধরে উধাও ঠিকাদার। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার চরছান্দিয়া ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের অন্তত দশ সহস্রাধিক মানুষ। তিন বছর আগের ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু করলে এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি এলেও কাজ রেখে চলে যাওয়ায় শুরু হয় ভোগান্তি। চলাচলের জন্য অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হলেও দুর্ঘটনায় নারী শিশুসহ অন্তত দশজন আহত হওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ঠিকাদারের বিচার দাবি করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শকুনিয়া খালের ওপর ব্রিজটি ভেঙে পড়লে নতুন ব্রিজ নির্মাণে ২০২১ সালে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে তিন মাসের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করার শর্তে কার্যাদেশ পায় মেসার্স মনোয়ার এন্টারপ্রাইজ। আগের ব্রিজটির ভেঙে পড়া অংশ সরিয়ে কাজ শুরুর এক মাসের মধ্যে উধাও হয়ে যান ঠিকাদার মনোয়ার হোসেন স্বপন।
সরেজমিনে দেখা যায়, শকুনিয়া খালে অস্থায়ীভাবে নির্মিত সাঁকো ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন গ্রামবাসী। নতুন ব্রিজ নির্মাণের পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। পশ্চিম পাশে রাস্তার মাঝখানে সামান্য কিছু পাথর ছাড়া আর কিছু নেই।
স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, ‘চাষের জমি খালের পশ্চিম পাশে। ব্রিজ না থাকায় তিন ফসলি জমির চাষাবাদ করা সম্ভব হয় না। কারণ চাষাবাদ করে ফসল ঘরে আনা সম্ভব হয় না। সাঁকো দিয়ে নিজে পার হওয়া কষ্টের। ঘুরে ফসল আনতে কয়েকগুণ বেশি টাকা ব্যয় হয়।’
জাহানারা বেগম নামে এক গৃহিণী বলেন, ‘আমার নাতি সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় খালে পড়ে হাত ভেঙেছে, পাঁচ মাস চিকিৎসার পরও সুস্থ হয়নি। তাছাড়া রাতে কেউ অসুস্থ হলে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে হয়।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাজাহান বলেন, ‘এ রাস্তা দিয়ে দৈনিক হাজারো মানুষের যাতায়াত ছিল। ২০২২ সালে পাইলিং করে ঠিকাদার চলে যান। এখন পর্যন্ত সেভাবেই পড়ে আছে। এলাকার মানুষদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বিষয়টি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সব স্তরের জনপ্রতিনিধিদের অবগত করেছি।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আল সাঈদ বলেন, ‘দুর্ভোগের বিষয়টি জানার পর ঠিকাদারকে কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অতিদ্রুত কাজটি সম্পন্ন করা না হলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মনোয়ার হোসেন স্বপন বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন অসুস্থ তাই চিকিৎসার জন্য ব্যস্ত থাকায় যথাসময়ে কাজ শেষ করতে পারিনি। পাইলিংয়ের কাজ সম্পন্ন করার পর অস্থায়ী চলাচলের জন্য একটি সাঁকো করে দিয়েছি। বর্ষা শেষ হলে ব্রিজের অবশিষ্ট নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করব।’
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, ‘নির্মাণসংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, ব্যর্থ হলে আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
