২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধের সময় ৪২ জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমান ৯ বছর পরে পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি খারিজ করেন।
২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ‘জননেত্রী পরিষদ’ এর সভাপতি এবি সিদ্দিকী খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে এ মামলাটি করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে গুলশান থানা পুলিশকে এই বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর গুলশান থানার এসআই শাহীন মোল্লা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি‘ বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ মামলায় অন্য যাদের আসামি করা হয়েছিল, তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ (ইতিমধ্যে প্রয়াত) ও চেয়ারপারসনের তৎকালীন উপদেষ্টা শমশের মবিন চৌধুরী। ইতিপূবে মামলার বাদী এবি সিদ্দিকী মারা গেছেন।
গতকাল এ মামলার প্রতিবেদন গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। বাদী পক্ষের কোনো পদক্ষেপ না থাকায় আদালত পুলিশের প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি খারিজ করে দেয়।
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে অব্যাহতি : গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে অব্যাহতি এবং ১২ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক আবু তাহের উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
যাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে তারা হলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আলী, সাবেক মন্ত্রী কর্নেল আকবর হোসেনের (প্রয়াত) স্ত্রী জাহানারা আনছার, দুই ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন ও এ কে এম মুসা কাজল, এহসান ইউসুফ, সাবেক নৌ সচিব জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য এ কে রশিদ উদ্দিন আহমেদ এবং গ্লোবাল অ্যাগ্রোট্রেড প্রাইভেট লিমিটেডের (গ্যাটকো) পরিচালক শাহজাহান এম হাসিব, এ এম সানওয়ার হোসেন, সৈয়দ তানভীর আহমেদ, সৈয়দ গালিব আহমেদ এবং এ এম এম শাহাদাত হোসেন। গতকাল এ মামলাটির চার্জ শুনানির তারিখ ধার্য ছিল। খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী হাজিরা দাখিল করেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহসহ একাধিক আইনজীবী অব্যাহতি আবেদন শুনানি করেন। অন্যদিকে, দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহাম্মদ আলী সালাম চার্জ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিনজনকে অব্যাহতি দিয়ে ১২ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে। এ সময় উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১৩ মে দুদকের উপপরিচালক জহিরুল হুদা, খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন। ২০০৮ সালের ১৩ মে মামলাটি তদন্ত করে চারদলীয় জোট সরকারের প্রভাবশালী ৯ জন সাবেক মন্ত্রী, উপমন্ত্রীসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. জহিরুল হুদা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বিচার চলাকালে ৯ আসামি মারা গেছেন। তারা হলেন সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, সাবেক মন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, এম কে আনোয়ার, সাবেক মন্ত্রী এম শামছুল ইসলাম, বন্দরের প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা আহমেদ আবুল কাশেম।
