পড়াশোনার পাশাপাশি জামিলের ক্যালিগ্রাফি

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:১৪ এএম

দিন দিন ক্যালিগ্রাফি শিল্পের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে অফিসেও ক্যালিগ্রাফি মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। আর এই ক্যালিগ্রাফি শিল্পের বিকাশে মাদ্রাসা পড়–য়া তরুণরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। তারা পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যালিগ্রাফি করে ভালোই আয় করছে। এসব তরুণদের একজন হলেন হুসাইন আহমাদ জামিল। সাভার ইপিজেড এলাকার বাসায় বসে ক্যালিগ্রাফি করে মাসে আয় করছেন প্রায় ২৫ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ এক মাসে আয় করেছেন ৪০ হাজার টাকা। এজন্য পুরো মাস নয়, বরং মাসের দিন পনেরো কাজ করতে হয়েছে। জামিল সাভারের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া সিদ্দীকিয়া যাদুরচর মাদ্রাসা এবং কাছৈর জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পড়ার পাশাপাশি ক্যালিগ্রাফি করে সবার নজর কেড়েছেন।

ক্যালিগ্রাফির প্রতি আগ্রহ তার ছোটবেলা থেকেই। আরবি লেখা তাকে খুব টানত। যার লেখা ভালো লাগত তারটা লেখার চেষ্টা করতেন। এভাবে নিজ থেকেই অল্প অল্প শিখে সামনে এগিয়ে যান। দেশের বাইরে বিশেষ করে আরবের বিভিন্ন ক্যালিগ্রাফারদের কাজ অনলাইনে দেখে শিখার চেষ্টা করতেন। এরপর ক্যালিগ্রাফির কিংবদন্তি মাহবুব মুর্শিদের কাছে কোর্স করে যেন আলোর দেখা পান। জামিল ২০২০ সালের পর থেকে পেশাগতভাবে ক্যালিগ্রাফি করে আসছেন।

কেউ শিখতে চাইলে সময়ের অভাবে ক্যালিগ্রাফি শিখানো হয়ে ওঠে না তার। তারপরও বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৫০ জনকে ক্যালিগ্রাফি শিখিয়েছেন। এছাড়া যে কেউ পরামর্শ চাইলে তিনি না করেন না। হাসিমুখে সাহায্য করেন। ভালোলাগা ও ভালোবাসা থেকেই তার ক্যালিগ্রাফি জগতে পদার্পণ। তবে কখন যে সেটা পেশা হয়ে গেছে তা বুঝতেই পারেননি। তার ক্যালিগ্রাফি এতটাই সুনাম অর্জন করেছে যে পরিচিতরাই প্রায় সব কাজ কিনে নেন। অফলাইনেই তার বেচাকেনা। অনলাইনে খুব কম বিক্রি হয়। প্রথম দিকে ক্যালিগ্রাফিতে তিনি মূলত কোরআনের আয়াত, হাদিস ও বিভিন্ন উপদেশমূলক বাক্যই বেশি লিখতেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এক্সিবিশনে তার ছবি প্রশংসা পেয়েছে। কাজ করতে গিয়ে তেমন সমস্যার মুখে পড়েননি জামিল। তবে তিনি মনে করেন, এই শিল্পের পরিচিতি বাংলাদেশের সর্বস্তরে আরও ব্যাপকভাবে প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন। যাতে কাজের অনেক বেশি জায়গা তৈরি হবে।

প্রথম আয় কীভাবে হয়েছিল সেটা মনে করতে না পারলেও জামিল জানান, প্রথমদিকে তার আঁকা ক্যালিগ্রাফিগুলো পরিচিত অনেকেই নিয়ে যেতেন। খুশি হয়ে তারা নানা উপাহার নিজ থেকেই দিতেন। নিজের কাজ সম্পর্কে জামিল বলেন, ‘প্রতিটি কাজই আমি অনেক আগ্রহ ও আনন্দ নিয়ে করি। প্রতিটি কাজের পেছনেই বলার মতো কিছু না কিছু গল্প থাকে। তবে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, সেটা হলো পরিবার ও মায়ের উৎসাহই আমার এ কাজের প্রধান প্রেরণা। আমার কাজ নিয়ে মায়ের এত গল্প যেন আমি কাজ করিনি, বরং আমার মা নিজেই করেছে। আমার পূর্বের অনেক শিক্ষক আমার অগোচরে আমার এবং আমার কাজের প্রশংসা করে। এসব ভালো লাগে।

পড়াশোনা এবং ক্যালিগ্রাফি দুটো পাশাপাশি করতে সমস্যা হয় কি না জানতে চাইলে জামিল বলেন, খুব একটা সমস্যা হয় না। তবুও যখন পরীক্ষা কিংবা পড়াশোনার চাপ থাকে তখন কাজ কিছুদিন বন্ধ রাখি। সেক্ষেত্রে আমার কাস্টমাররাও আমাকে সময় দিয়ে সহযোগিতা করেন। সেজন্য আমি তাদের প্রতি অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। বিখ্যাত অনেকেই জামিলের কাজের প্রশংসা করেছেন। এদেরই একজন আর. পি. ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনির হোসাইন মুনিম। তিনি সব সময় জামিলকে উৎসাহিত করেন। কাজের ব্যাপারে সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় জামিল তার এলাকায় কাজ করেছেন। এখন যেভাবে কাজ করছেন সেটা আগামী দিনে অব্যাহত রাখবেন। এমনটাই তার আগামী দিনের ভাবনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত