রাসুল (সা.) ছিলেন পৃথিবীবাসীর জন্য রহমতস্বরূপ। প্রাণিকুলের প্রতি তার দয়া ছিল অতুলনীয়। নিজ উম্মতের প্রতি ছিলেন খুবই দরদি। তিনি সর্বদা সব শ্রেণির মানুষের জন্য রহমতের দোয়া করতেন। কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে বিশৃঙ্খলা রুখে দিতে কাউকে কাউকে তাদের কৃত পাপের দায়ে অভিসম্পাতও করেছেন।
মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি : মাদক দেশ ও জাতির জন্য খুবই ক্ষতিকর। নেশাগ্রস্ত মানুষ যেকোনো জঘন্য পাপ কাজে লিপ্ত হতে পারে। তাই রাসুল (সা.) মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে অভিসম্পাত করেছেন। হাদিসে এসেছে, আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, মদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ১০ শ্রেণির লোককে রাসুল (সা.) অভিসম্পাত করেছেন। তারা হলো, মদ তৈরিকারী, মদের ফরমায়েশকারী, মদ পানকারী, মদ বহনকারী, যার জন্য মদ বহন করা হয়, মদ পরিবেশনকারী, মদ বিক্রেতা, মদের মূল্য ভোগকারী, মদের ক্রেতা এবং যার জন্য মদ ক্রয় করা হয়। (তিরমিজি)
সুদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি : ইসলামে সুদ হারাম। সুদি কারবারে যুক্ত ব্যক্তি কখনোই সফল হতে পারে না। রাসুল (সা.) সুদের সঙ্গে জড়িতদেরও অভিশাপ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) অভিশাপ করেছেন সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং সাক্ষীর ওপর এবং বলেছেন এরা সবাই সমান। (সহিহ্ মুসলিম)
অভিন্ন পোশাকে আবৃত নারী-পুরুষ : ইসলামে নারী ও পুরুষের পোশাকের গুরুত্ব বেশ। কেননা পোশাকের দ্বারা মানুষের আকৃতিগত সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। তাই ইসলাম নারী ও পুরুষের পোশাকের পার্থক্য করে দিয়েছে। কিন্তু যারা এ পার্থক্যকে উপেক্ষা করে একে অন্যের পোশাক পরিধান করে রাসুল (সা.) তাদের অভিসম্পাত করেছেন। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) অভিসম্পাত করেছেন ওই সব পুরুষকে, যারা নারীর অনুরূপ পোশাক পরে এবং ওই সব নারীকে, যারা পুরুষের অনুরূপ পোশাক পরিধান করে। (আবু দাউদ)
শরীরে উলকি অঙ্কনকারী : মহান আল্লাহ মানুষকে উত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেকে নিজ আকৃতিতে সেরা। আল্লাহর দেওয়া আকৃতিতে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন নিষিদ্ধ। যারা নিজ দেহে উলকি অঙ্কন করে রাসুল (সা.) তাদের অভিসম্পাত করেছেন।
