‘অজ্ঞাতপরিচয় আসামি’-আতঙ্ক

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৪:৩৪ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলই প্রভাব, শক্তি আর ক্ষমতায় প্রায় সমানে সমান। অথচ গত ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর গা ঢাকা দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। এখন বিএনপির মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে ঘরছাড়া তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও।

আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, মামলায় যাদের নাম আছে, তারা জেনে-বুঝেই আত্মগোপনে আছেন। অনেক নেতা আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগেই আত্মগোপনে গেছেন। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা পড়েছেন বড় সংকটে। তারা ‘অজ্ঞাতপরিচয় আসামি’ আতঙ্কেই বেশি কাতর। মামলায় নাম উল্লেখের চেয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি বেশি। যে কাউকে যেকোনো সময় আটক করে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে বলে ভয়ে আছেন তারা।

শুধু মূল দল নয়, আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারাও লাপাত্তা। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীরাও ভয়ে আছেন বলে বেশ কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকের বাসাবাড়ি, অফিস কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুট হচ্ছে। এসব দেখে ভয়ে দিন পার করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্র মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা পালিয়ে আছেন। তবে পরিবার-পরিজন দিন-রাত আতঙ্কের মধ্যে থাকছেন, কখন কী হয়! উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ঘরছাড়া রয়েছেন বলে জানা গেছে।

থানা সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নামে এ পর্যন্ত আনোয়ারা থানায় দুটি মামলা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৭ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ১১২ জনের নামে মামলা করেন বিএনপির কর্মী তৌহিদ মিয়া। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ১০০ থেকে ১৫০ জনকে। মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে ১ নম্বর ও সাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খানকে ২ নম্বর আসামি করা হয়।

দলীয় সূত্র মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতারা আত্মগোপনে থাকলেও অনেকেই ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে সক্রিয় রয়েছেন। তাদের সঙ্গে কেবল হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। শুধু বিশ^স্ত কর্মী বা পরিচিতজনদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রাখছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে। আপাতত তাদের নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করেছি। একদিকে বিএনপি-জামায়াতের হামলার ভয়, অন্যদিকে মামলার ভয়।’

আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে মামলা দিয়েছিল। এসব মামলায় নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর পালিয়ে বেড়িয়েছেন। কেউ আবার মাসের পর মাস কারাভোগ করেছেন। আমরা দুটি মামলা করেছি। আরও দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হলেও যারা নির্দোষ তাদের ভয়ের কারণ নেই।’

আনোয়ারা থানার ওসি মো.মনির হোসেন বলেন, এ পর্যন্ত থানায় দুটি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। মামলায় নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। আসামিদের ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মো. সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘প্রতিটি মামলায় নাম উল্লেখসহ যেমন আসামি করা হয়েছে, তেমনি অজ্ঞাতপরিচয় আসামিও রয়েছে। অনেককে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। তবে নির্দোষ কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না। যদি নির্দোষ কেউ হয়রানির শিকার হয় আমাকে জানাবেন, আমি ব্যবস্থা নেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত