জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় চিকিৎসকের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে নারী চিকিৎসককে লাঞ্চিত করার ঘটনায় মানববন্ধন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা। নারী চিকিৎসক আসমা লাবনীর ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধনে অনুমতি ছাড়া ছবি তুললে গাছের সাথে বেঁধে লাল থেরাপি দেওয়ার হুমকি দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মো.আজিজুল হক।
আজিজুল হক বলেন, আমাদের সেনা বাহিনীর নির্দেশনা আছে। কেউ যদি আমাদের পারমিশন ছাড়া এখানে একটা ছবি তুলতে আসে তাদেরকে গাছের সাথে বাইন্ধে (বেঁধে) রাখতে বলছে। আপনারা বাইন্ধে (বেঁধে) রাখবেন। তাকে লাল থেরাপী দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন ওই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। ওই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত শনিবার (২ নভেম্বর) দুপুরের দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এসব মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা। পরে তার বক্তব্যের দুইটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
মানববন্ধনের ৪৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লীপে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মো.আজিজুল হক যা বলেছেন, আপনি কে? আপনার পরিচয় কী? আপনার বাবার নাম কী? কোন বাড়িতে থাকেন? ভোটার আইডি নাম্বার কত? আপনি এগুলা দিয়ে সাংবাদিকতা করবেন। আমাদের সেনা বাহিনীর নির্দেশনা আছে, কেউ যদি আমাদের পারমিশন ছাড়া এখানে একটা ছবি তুলতে আসে তাদেরকে গাছের সাথে বাইন্ধে (বেঁধে) রাখতে বলছে। আপনারা বাইন্ধে (বেঁধে) রাখবেন। তাদেরকে লাল থেরাপি দেওয়া হবে। আমরা উপজেলায় গিয়েছিলাম। উপজেলা প্রশাসক সকল দপ্তরকে আমরা জানান দিয়ে এসেছি। আমরা অনিরাপদ থাকবো না। আমাদের নিরাপত্তা আমরাই নিবো। আমরা কারো দয়া চায় না। সাংবাদিক ভাইয়েরা যেটা পিছে আছে। আপনারা পড়াশুনা করবেন। আপনার কাছে যেন বিধি-বিধানগুলো থাকে।
এ মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার মাইনুল ইসলাম, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.আসমা লাভনী, ডা.হুমাইরা, স্যানেটারী ইন্সপেক্টর টিটন, আব্বাছ আলী, মাহমুদা আক্তার শিউলি প্রমুখ।
এ বিষয়ে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তো কয়েকজন সাংবাদিক বসেছিলাম। এ সময় খবর আসে হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। পরে গিয়ে দেখি জরুরি বিভাগে কেউ নেই। চিকিৎসক ও রোগীর লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি চলছে। এক পর্যায়ে ওই নারী চিকিৎসককে লোকজন ধাওয়া করলে ওই তিনি একটি রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় আমারা ভিডিও ধারণ করি। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় নেতাকর্মী ওই নারী চিকিৎসককে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। পরে আমরাও চলে আসি। পরে দেখি আমরা যে তিনজন সাংবাদিক ছিলাম, তাদের নামেও মামলা দিয়েছে।’
ভিডিও’র প্রসঙ্গে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মো.আজিজুল হক বলেন, ‘হাসপাতালে একজন নারী চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের এখানে অনেক অপসাংবাদিক এসে সমস্যা করেন। প্রকৃত সাংবাদিকদের আমরা সবসময় শ্রদ্ধা করি। আমাদের হাসপাতালে এসে সাংবাদিক পরিচয়ে যা নয়, তা করতে চায়। এসব অপসাংবাদিকদের উদ্দেশ্য বলা। আসলে এটা কথার কথাই বলা হয়েছে।’
এদিকে সোমবার (৪ নভেম্বর) দুপুরের দিকে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদ আজিজুল হকের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও গণহয়রানি বন্ধের দাবিতে গণবিক্ষোভ এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করছে স্থানীয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সরকার রাসেলসহ এলাকাবাসী।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মামলায় চরকাউরিয়া সীমারপাড় গ্রামে বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অজ্ঞাতনামা যে আসামি করেছেন এতে ভয়ে নারী পুরুষ গ্রাম ছাড়া হয়েছে। সমাবেশে বক্তব্য দেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সরকার রাসেল।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২৮ অক্টোবর) রাতে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনরা চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ তুলে নারী চিকিৎসক আসমা লাবনীকে লাঞ্চিত করে। এ ঘটনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মো.আজিজুল হক বাদী হয়ে পৌর কাউন্সিলরসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৪০-৫০জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
খাবারে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে চুরি করতে গিয়ে চোর আটক
গণহত্যা-গুমের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে ৮০টির বেশি অভিযোগ
বাবার মৃত্যুর এক মাসের মাথায় আরাফাত নিখোঁজ
বিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ কিশোর নিহত 