দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আরও ছয়জন মারা গেছে। এ নিয়ে এ বছর মৃত্যু দাঁড়াল ৩২০ জনে। এই মৃত্যু দেশে ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের গত ২৪ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে এর চেয়ে বেশি মারা গেছে গত বছর ১ হাজার ৭০৫ জন। চলতি বছরের আগে পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর বছর ছিল ২০২২ সাল। সে বছর মারা গিয়েছিল ২৮১ জন।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে জ¦ও নিয়ে১ হাজার ২৯৭ রোগী ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৭৬৮ জনে। এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত দেশে এক বছরে হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৩ সালে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। চার বছর আগে ২০১৯ সালে ভর্তি হয়েছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ রোগী ও ২০২২ সালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৬২ হাজার ৩৮২ জন।
এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে বেশি মারা গেছে নারী ১৬৪ জন, যা মোট মৃত্যুর ৫১ শতাংশ এবং পুরুষ মারা গেছে ৪৯ শতাংশ বা ১৫৬ জন। অথচ নারীর আক্রান্তের হার পুরুষের তুলনায় অনেক কম। এখন পর্যন্ত মোট রোগীর ৬৩ শতাংশই পুরুষ ও নারী ৩৭ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, ডেঙ্গুতে নতুন মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও তিনজন নারী। তাদের মধ্যে তিনজন ঢাকা উত্তর সিটিতে, দুজন চট্টগ্রাম বিভাগে ও একজন ঢাকা বিভাগে ভর্তি ছিল।
এ নিয়ে এ মাসের গত চার দিনে ডেঙ্গুতে মারা গেল ২৩ জন। আগের মাসের প্রথম চার দিনে মৃত্যু ছিল ১৪ জনের। সেই হিসাবে এ মাসে মৃত্যু দেড়গুণের বেশি।
নতুন রোগীদের মধ্যে ৮১৭ পুরুষ ও ৪৮০ নারী। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩৮ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৬৪, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮৫, খুলনা বিভাগে ১৭১ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৪৩ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ভর্তি হয়েছে ৮৯, রংপুর বিভাগে ৩৬, রাজশাহী বিভাগে ৩৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৩ ও সর্বনিম্ন চার ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে সিলেট বিভাগে।
এ নিয়ে এ মাসের গত চার দিনে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৩ হাজার ৯৫১ জন। গত মাসের এ সময়ে রোগী ছিল ৩ হাজার ৫০০ জন। অর্থাৎ এ মাসেও এখন পর্যন্ত গত মাসের অনুপাতেই রোগী দেখা যাচ্ছে।
