শেখ হাসিনাকে ফেরতে ভারতকে অনুরোধ জামায়াত আমিরের

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:১৪ এএম

ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেশীর প্রতি অনুরোধ করব শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। দেড়শোর অধিক মামলা। তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা আছে, গুমের মামলা আছে। আমাদের বিচারালয় যখন চাইবে, মেহেরবানী করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আপনারা (ভারত) তাকে তুলে দেবেন। অপরাধী যদি অপরাধ করে শাস্তি না পায় তাহলে অন্য অপরাধীরা উৎসাহ পাবে। গতকাল শুক্রবার নীলফামারী পৌরসভা মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা সাড়ে ১৫ বছর মানুষকে শান্তি দেয়নি। সব ধর্মের, সব বর্ণের মানুষ তাদের কাছে নির্যাতিত ছিল। ২০০৯ সালের ১০ জানুয়ারি ক্ষমতায় আরোহণ করার পরে ঝাল মিটিয়েছিল আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ওপর। দুমাস যায়নি ফেব্রুয়ারির ২৫ এবং ২৬ তারিখ ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআরের সদর দপ্তরে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যা করেছিল।’ 

জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত নেতাকে যুদ্ধাপরাধের অথবা মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল তাদের কারও বিরুদ্ধে তখন একটি মামলাও দায়ের করা হয়নি। যদি সত্যি জামায়াতে ইসলামী এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকত তাহলে অবশ্যই বাংলাদেশের কোনো না কোনো থানায় একটা হলেও মামলা দায়ের করা হতো। তাহলে কেন এই ১১ জন নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হলো?’

২৪-এর শহীদদের লাশ এখন আমাদের জাতির ঘাড়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের আচরণে প্রমাণ করতে হবে, রাজনীতিতে প্রমাণ করতে হবে, আগামী দেশ পরিচালনায় প্রমাণ করতে হবে যে আমরা এই শহীদদের শ্রদ্ধা করি। এ প্রমাণ করতে হলে এমন একজন মানুষ লাগবে যারা মুখে যা বলবে কাজেও তাই করবে।’

তিনি বলেন, ‘সাবেক সরকারের সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বক্তব্যে দাম্ভিকতা প্রকাশ করতেন, অহংকার করে কথা বলতেন। তিনি বলেছিলেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে দুদিনের মাথায় পাঁচ লাখ মানুষ খুন হবে। কিন্তু ৫ ও ৬ আগস্ট একজন মানুষও খুন হয়নি।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছিলেন কোথাও পালাবেন না। তিনিও পালালেন, তিনিও চলে গেলেন, তিনি তার প্রিয় দেশে আশ্রয় নিলেন। প্রতিবেশীকে আমরা সম্মান করি। আমরা বিশ্বাস করি প্রতিবেশী ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকব। আমার প্রতিবেশীকে কষ্ট দিলে অনুরূপ কষ্টের জন্য আমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান ইস্যু হলো সমাজে বৈষম্যহীন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। আমরা কথা দিচ্ছি, আমরা কোনো অপরাধ করব না। আমরা কোনো দুর্নীতি-লুণ্ঠন করব না এবং আমরা কাউকে দুর্নীতি-লুণ্ঠন করতে দেব না। আমরা নিজেরা ঘুষ খাই না এবং কাউকে ঘুষ খেতেও দেব না।’  

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা শাখার আমির অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান বেলাল। আমন্ত্রিত অতিথির বক্তৃতা দেন জেলা বিএনপির সভাপতি আ. খ. ম আলমগীর সরকার।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সম্মেলনস্থলে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সভাস্থলে সমবেত হন প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক নেতাকর্মী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আন্তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় কর্মীসম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ড. খায়রুল আনাম, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান জুয়েল, রংপুর মহানগর জামায়াতের সাবেক সেক্রটারি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী, বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি রাজিবুর রহমান পলাশ, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি তাজমুল হাসান প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত