সৎ ও অসৎকাজের বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৪, ০২:২৪ এএম

সৎ কাজের আদেশ করা এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আমল। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু। তারা সৎকাজের আদেশ করে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে। (সুরা তওবা ৭১) পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন, আমি এমন লোকদের মুক্তি দিলাম, যারা অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে। আর যারা জালেম ছিল তাদেরকে তাদের পাপাচারের কারণে নিকৃষ্ট আজাব দিয়ে পাকড়াও করলাম। (সুরা আরাফ ১৬৫)

হাদিসের বর্ণিত হয়েছে, আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন খারাপ কাজ হতে দেখে, সে যেন তার হাত দ্বারা বাধা দেয়। যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তাহলে জবান দ্বারা, যদি সে তাতেও সক্ষম না হয়, তাহলে অন্তরের দ্বারা যেন ঘৃণা করে। আর এটা ইমানের সবচেয়ে দুর্বল স্তর। (সহিহ মুসলিম) এই হাদিস দ্বারা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, যখন কোনো খারাপ কাজ আমাদের সামনে সংঘটিত হয়, তখন আমাদের সাধ্য অনুযায়ী তা বন্ধের চেষ্টা করব। কারণ তা রাসুল (সা.) আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন।

হাদিসে এসেছে, হুজায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ওই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। অন্যথায় অবশ্যই তোমাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ হতে শাস্তি অবতীর্ণ করা হবে। তারপর তোমরা দোয়া করবে, তোমাদের দোয়া কবুল করা হবে না। (জামে তিরমিজি) হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে, উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কেয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, তারপর তাকে দোজখে নিক্ষেপ করা হবে। তখন তার নাড়ি-ভুঁড়ি বের হয়ে যাবে। সে সেটাসহ এভাবে চক্কর খাবে, যেভাবে গাধা চক্কির চারপাশে ঘুরতে থাকে। দোজখের অধিবাসীরা তার কাছে জমা হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করবে, হে অমুক! তোমার অবস্থা এমন কেন? তুমি কি সৎকাজের আদেশ করতে না এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতে না? তখন সে বলবে, হ্যাঁ, আমি সৎকাজের আদেশ করতাম, কিন্তু সৎকাজ করতাম না। আমি অসৎকাজ থেকে নিষেধ করতাম, কিন্তু নিজেই সেটা করতাম। (সহিহ বুখারি) আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকেই সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করার তওফিক দান করুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত