মূলধন ঘাটতি থাকলে লভ্যাংশ দিতে পারবে না ব্যাংক

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৪, ১২:২৫ এএম

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি থাকলে কোনোভাবেই লভ্যাংশ দেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো ব্যাংক এ ধরনের কাজ করে থাকলে তা সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানাতে বলেছে সংস্থাটি। গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গভর্নরের সঙ্গে ১৭ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একটি অনির্ধারিত বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মুখপাত্র বলেন, বৈঠকে যেসব ব্যাংকের আমানত ভালো অবস্থানে রয়েছে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে আরও বেশি পরিমাণে তারল্য সহায়তা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন গভর্নর। ইতিমধ্যে যাদের তারল্য পর্যাপ্ততা কম রয়েছে, তাদের তারল্য সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি মেকানিজম করে দিয়েছে। সেই মেকানিজমের ওপরই অন্য ব্যাংকগুলোকে অংশগ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

হুসনে আরা শিখা বলেন, এর আগে এক্সচেঞ্জ রেট এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট নিয়ে কোনো চ্যালেঞ্জ আছে কি না, এটা নিয়ে গভর্নর জানতে চেয়েছিলেন। ব্যাংক এমডিরা জানান, এটা নিয়ে চ্যালেঞ্জ না থাকলেও ‘ওভার ডিউ পেমেন্ট অব এলসির’ ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকি রয়েছে। যেমন আইএমএফ ও বিশ^ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের এমডিদের সঙ্গে বৈঠককালে জানিয়েছে যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে কিছু ব্যাংক হয়তো আগেই পেমেন্ট করে দিচ্ছে কিন্তু সেই কনফার্মিং ব্যাংক যখন পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর তার পেমেন্টটা পুনর্ভরণ বা রিইনভেস্টমেন্ট চাচ্ছে, তখন সেটা তারা দেরি করে পাচ্ছে। এটাকে গভর্নর অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন, যেসব ব্যাংক ডিলে পেমেন্ট করবে তাদের বিরুদ্ধে এক ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি শোনা যায় তারা এ ধরনের কাজ করছে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইন্টারন্যাশনাল এলসি যেগুলো খোলা আছে, সেগুলোর যেন ঠিকঠাকমতো পেমেন্ট করা হয়।

মুখপাত্র জানান, ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট আরও বেশি স্থিতিশীল হবে। যদিও এটা এখনো স্থিতিশীল আছে। এখানে যাতে কেউ ম্যানুপুলেশন না করে, তারা যাতে ডলার জমা করে রেখে পরবর্তীকালে আবার বেশি দাম পাওয়ার আশায় বিক্রি না করে। কেউ কেউ আবার ডলার কিনে ইউরোতে ট্রান্সফার করছে, এ ধরনের কাজ করে কেউ যেন লাভবান হওয়ার চেষ্টা না করে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মুখপাত্র বলেন, ব্যাংকগুলো বলেছে ক্রেডিট কার্ডের রেট অনেক কম এবং রেট বিভিন্ন কারণে বাড়ানো যাচ্ছে না। অথচ এই ক্রেডিট কার্ডের পেছনে বিভিন্ন খরচ হচ্ছে ব্যাংকের। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল রেটের সঙ্গে যৌক্তিক করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন জানিয়েছে। সে ক্ষেত্রে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ ছাড়া বৈঠকে আগের গভর্নরের সময় ডিপ্লোমা পরীক্ষা যেটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, সেটা বাধ্যতামূলক না রেখে ভিন্ন কোনো অপশন রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে একটা কমিটি করার কথা বলা হয়েছে যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তা থাকতে পারেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত