অর্থ উপদেষ্টা বললেন

ট্যাক্স কমালেও দাম কমছে না বাজারে বিশৃঙ্খলা

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:০৪ এএম

নানা পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও নিত্যপণ্যের দাম কমছে না জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাজারে এতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, মানুষ বলছে দাম কমছে না অথচ এনবিআর অনেক সুবিধা দিয়েছে, ট্যাক্স কমিয়ে দিলাম, তারপরও নিত্যপণ্যের দাম কমে না। মানুষ অধৈর্য হয়ে গেছে, এটাই স্বাভাবিক। গতকাল বুধবার নগরীর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত ‘পিকেএসএফ দিবস ২০২৪’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে আমদানি শুল্ক কমিয়েও ডিম ও পেঁয়াজের দাম না কমায় মানুষের ক্ষোভের সম্মুখীন হয়েছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘বাজার স্থিতিশীল রাখা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একার কাজ নয়। অনেক কারণ রয়েছে। কিন্তু আমি অধৈর্য হওয়ার জন্য মানুষকে দায়ী করি না। কারণ কাঁচাবাজারের জন্য ৫০০ টাকা খরচ করেও তারা যথেষ্ট পাচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি। বিষয়গুলো খুব সহজ নয়।’

পিকেএসএফের এবারের প্রতিপাদ্য ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে অর্থায়ন’। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পিকেএসএফের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক বদিউর রহমান। পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পিকেএসএফের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা চলে গেলেও মানুষ মনে রাখবে। কারণ আমরা ভালো কাজ করেছি। মানুষ বলবে স্যার, আপনি ওখানে ছিলেন, আপনি অমুক কাজ করছেন। অনেকে আমাদের ধন্যবাদ দেন যে, স্যার আপনি ট্যাক্সের অমুক কাজটি ভালো করেছেন। বন্ডের ট্যাক্স তুলে দেওয়ায় মানুষ আমাদের অনেক ভালো বলে। সঞ্চয়পত্রেও আমরা ভালো করেছি। এখন সঞ্চয়পত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিনিউ হচ্ছে। ভালো জিনিস যত তাড়াতাড়ি করা যায়, ততই মঙ্গল।’

আক্ষেপ করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘ভালো প্রতিষ্ঠানের বড্ড অভাব। বিল্ডিং আছে কিন্তু মানুষ নেই, সেখানে স্বচ্ছতার অভাব, জবাবদিহির অভাব। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে প্রতিদিন কথা বলি যে তুমি এটা দেখো।’

ভারতে ইলিশ রপ্তানিকে ইতিবাচক ব্যাখ্যা করে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার ছোট ভাই ফোন দিয়ে বলে, ভাই ইলিশ মাছ দিয়ে দিলেন, ফেসবুকে আপনাকে গালি দিয়ে ভরে দিচ্ছে। আমার কিন্তু ফেসবুক নেই। একটা সিজনে ৫ লাখ ৩০ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হয়। ভারতে দিলাম মাত্র তিন হাজার টন। অনেকে বলছে, ভারতে ইলিশ দেওয়া ভালো সিদ্ধান্ত।’

বিশে^ আমাদের বিষয়ে সবাই ইতিবাচক উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দিকে কেউ মুখ বাঁকা করছে না। বিশ^ব্যাংক-আইএমএফ সভায় গেলাম, সাত থেকে আট দিন ছিলাম, এতগুলো সভা করতে গিয়ে আমরা ক্লান্ত। সবাই আমাদের বিষয়ে ইতিবাচক। সভা করতে করতে আমরা হয়রান হয়ে গেছি। সবাই আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চায়। তবে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কিছু শর্ত থাকে তবে শর্ত কঠিন নয়। প্রত্যেকে হাত বাড়িয়েছে।’

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সার্বিকভাবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা আছে। দেশের কৃষকমজুর ও পোশাকশ্রমিকের অবদানের কারণে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা মানুষের সঙ্গে মিলে মানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাব। আমরা দায়িত্ব পালন করছি। আমরা স্বল্পমেয়াদি সংস্কার করব, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার করব না। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার করবে নির্বাচিত সরকার। আমরা চাইলেই সবকিছু পারি না, আমাদেরও কিছু বাধা আছে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পিকেএসএফের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক বদিউর রহমান বলেন, ‘পিকেএসএফের প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখায় জোর দিতে হবে। শুধু হাঁস-মুরগি নিয়ে থাকলেই হবে না, এ সময় টেকনোলজিতেও জোর দিতে হবে। ধ্যান-ধারণার পরিবর্তন আনতে হবে। এখন সময় এসেছে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।’

সভাপতির বক্তব্যে পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান প্রতিষ্ঠানটির সব অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী, সরকারি কর্মকর্তারা, সহযোগী সংস্থা, এমআরএ এবং মাঠপর্যায়ের সদস্যদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ ছাড়া তিনি পিকেএসএফের সহযোগী সংস্থাগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে পিকেএসএফের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের পিকেএসএফ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস প্রসঙ্গে বলেন, ‘সম্পূর্ণ দেশজ ধারণার ওপর ভিত্তি করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পিকেএসএফ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পিকেএসএফের কর্মকৌশল ছিল আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে অর্থায়ন করা। এ-সংক্রান্ত কার্যক্রমকে দারিদ্র্য নিরসনে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে পিকেএসএফ ২০০৩ সাল থেকে অর্থায়নের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত