রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্য আমদানির জন্য ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে সরকার। পবিত্র এ মাসে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুরের চাহিদা থাকে অনেক। বাংলাদেশে বছরে খেজুরের চাহিদা ১ লাখ টন, শুধু রমজানেই চাহিদা থাকে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টন। তবে শুল্কহার ৬৩ শতাংশের বেশি হওয়ায় খেজুরের দাম থাকে নাগালের বাইরে। গতবারের মতো এবারও রমজানের এ নিত্যপণ্যের শুল্কছাড়ের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিসি)। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
সূত্র বলছে, খেজুর আমদানিতে শুল্ককর ও শুল্কায়ন যৌক্তিকিকরণের দাবিতে আশাজু নামের একটি প্রতিষ্ঠান ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে আবেদন করে। এ প্রতিষ্ঠানটি মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ থেকে খেজুর আমদানি করে থাকে। উচ্চ শুল্কহার থাকায় প্রতিষ্ঠানটি এখনও খেজুর আমদানি করতে পারেনি। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশন ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা সভা করে বিটিসি। এতে সভাপতিত্ব করেন বিটিসি চেয়ারম্যান ড. মঈনুল খান।
আমদানিকারকরা বলছেন, খেজুর আমদানির ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে শুল্ক দিতে হয় ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খেজুর আমদানির ক্ষেত্রে এ শুল্ক দিতে হয়েছে। এর মধ্যে কাস্টমস ডিউটি (সিডি) ২৫ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ, এআইটি ১০ শতাংশ, আরডি ৩ শতাংশ এবং এটি ৫ শতাংশসহ মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিটিসি বলছে, দেশে বর্তমানে খেজুরের চাহিদা প্রায় ১ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন এবং রমজান মাসে খেজুরের চাহিদা প্রায় ৬০-৭০ হাজার টন। খেজুর আমদানিতে উচ্চহারে অগ্রিম আয়কর (১০ শতাংশ) ও আগাম কর (৫ শতাংশ) আরোপিত আছে, এটি বাস্তবতার নিরিখে যৌক্তিক নয়। এই উচ্চহারের এই বাড়তি কর পণ্যের মোট খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। কমিশন মনে করে, উচ্চ শুল্কহারের কারণে ধারাবাহিকভাবে খেজুর আমদানির পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশে খেজুর সাধারণত রমজান কেন্দ্রিক বর্ধিত চাহিদা বিবেচনায় আমদানি হয়ে থাকে। এ সময় স্থানীয় আমদানিকারকরা রপ্তানির জন্য প্রস্তুতকৃত মজুদ থেকে আমদানি করে। তাই আমদানিকৃত খেজুরের মোড়কে বিদ্যমান আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী আমদানিকারকের নাম, ঠিকানা ও ইটিআইএন, বিআইএন লিপিবদ্ধ করে আমদানি করতে সক্ষম হয় না। তাই এই বিধানটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক খেজুর আমদানির ক্ষেত্রে শিথিল করা যেতে পারে।
এ প্রেক্ষিতে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন খেজুর আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কছাড়ের কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পবিত্র রমজানে খেজুরের মূল্য স্থিতিশীলকরণের জন্য খেজুর আমদানিতে গত বছরের ন্যায় বিদ্যমান কাস্টমস ডিউটি (সিডি) ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণ এবং সমুদয় আগাম কর (৫ শতাংশ) আগামী ৩১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত সময়ের জন্য অব্যাহতি প্রদান করা যেতে পারে।
বিটিসির আরেকটি সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, শুল্ক স্টেশন কর্তৃক নির্বাহী আদেশে খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রকৃত বিনিময় মূল্যকে ভিত্তি এবং টিসিবি কর্তৃক সাম্প্রতিক এলসি মূল্যকে বিবেচনায় নিয়ে শুল্কায়নের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক শুল্ক স্টেশনগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা যেতে পারে। এ বিষয়ে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন এবং স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। তাছাড়া মোড়কজাতকৃত পণ্য আমদানিতে আমদানিকারকের নাম, ঠিকানা ও ইটিআইএন, বিআইএন লিপিবদ্ধ করার বাধ্যবাধকতা শিথিল করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলেও সুপারিশ করেছে তারা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন সভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি পরামর্শ দেন, গত রমজানে খেজুর আমদানিতে সরকার যে শুল্ক রেয়াত সুবিধা প্রদান করেছিল তা রমজানের কয়েকদিন আগে হওয়াতে শুল্ক রেয়াত প্রদানের প্রভাব বাজারে পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া তিনি আমদানি শুল্ক অব্যাহতি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতি টন বা কেজিতে স্পেসিফিক হারে শুল্ক রেয়াতের বিষয়ে মতামত দেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. হাফিজ-আল-আজাদ সভায় বলেন, খেজুর রমজান কেন্দ্রিক পণ্য হওয়ায় এর মূল্য স্থিতিশীল রাখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য শুল্ক রেয়াত সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে।
শুল্কছাড়ের পক্ষে ইতিবাচক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও (এনবিআর)। এনবিআরের প্রথম সচিব মো. রইস উদ্দীন খান সভায় জানান, খেজুর আমদানিতে শুল্ক হ্রাসসহ শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় যদি কোন সমস্যা থাকে সে বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রেরণ করা হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তা বিবেচনা করবে।
২০২২-২৩ অর্থবছরে খেজুর আমদানির পরিমাণ ৮৬ হাজার ৫৮১ টন ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খেজুর আমদানির পরিমাণ ৮০ হাজার ৯১০ টন। এই দুই বছর আমদানি গড় মূল্য (শুল্ককর ব্যতীত) প্রতি কেজি যথাক্রমে ৩৩৬ টাকা ও ৪৯৭ টাকা । চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (জুলাই-২৪ অক্টোবর) খেজুর আমদানির পরিমাণ ২৮৯ টন এবং গড় আমদানি মূল্য (শুল্ককর ব্যতীত) ৪৩৩ টাকা প্রতি কেজি।
উল্লেখ্য, দেশে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, তিউনিসিয়া, মিসশর, জর্ডান, ইরাক, ইরান ও পাকিস্তান থেকে অধিকাংশ খেজুর আমদানি করা হয়।
শেখ হাসিনা পালিয়ে প্রমাণ করেছেন তিনি অপরাধী: গোলাম পরওয়ার
কোনো মোড়কেই জঙ্গিবাদকে সুযোগ দিতে পারি না: আসিফ নজরুল
শহীদদের নামে ৩ স্টেডিয়ামের নতুন নামকরণ