শরীয়তপুরে পদ্মার বাঁধে ধস, আতঙ্কে গ্রামবাসী

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৩৪ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড পদ্মা নদী রক্ষা বাঁধ ধসে গেছে। গত ৩ নভেম্বর এই ধস নামা শুরু হয়। শনিবার (১৬ নভেম্বর) পর্যন্ত উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের মাঝিরঘাট এলাকায় ১০০ মিটার ধসে যায়।

এছাড়াও পাইনপাড়া আহম্মদ মাঝিকান্দি এলাকার ‘মফিজুল উলূম জামে মসজিদটিও’ নদী ভাঙনে তলিয়ে গেছে। মূলত ড্রেজার দিয়ে নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এমন ভাঙন বলছে এলাকার মানুষ। এর ফলে গ্রামবাসী বড় ধরনের ভাঙনের শঙ্কা করছে। এদিকে ভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ডার্পিং করা হবে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড।

শনিবার দুপুরে মাঝিরঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা সেতু থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিটার দূরেই বাঁধ ধসে গেছে। প্রায় ১০০ মিটার এলাকায় কংক্রিটের সিসি ব্লক পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার আশপাশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ওই এলাকায় পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানায় স্থানীয় এলাকাবাসী।

পাশাপাশি নদীর ওপারে পাইনপাড়া আহম্মদ মাঝি কান্দি এলাকায় ‘মফিজুল উলূম জামে মসজিদটিও’ নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। মসজিদটি নদীতে কাত হয়ে পরে আছে। সেখানেও ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড পদ্মা নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। ২০১০-২০১১ সালে পদ্মা সেতু থেকে মাঝিরঘাট হয়ে পূর্ব নাওডোবা আলমখার কান্দি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এটি নির্মাণে ১১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। ২০১১ সালই বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হয়। এতে নদীভাঙন ও বন্যার হাত থেকে অনেকটাই মুক্তি পেয়েছিল গ্রামবাসী।

পাইনপাড়া আহম্মদ মাঝি কান্দি এলাকার বাসিন্দা রহিম উদ্দিন মৃধা ও আতাহার মৃধা বলেন, পদ্মা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের কারণে আমাদের এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে বাঁধ, মসজিদ, স্কুল, মাদরাসা, ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি নদী গর্বে চলে যাচ্ছে। তাই ভাঙন রোধ করতে হলে পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সরকার যেন টেকসই বেড়িবাঁধ করে দেয়। তা নাহলে আমরা নদী পাড়ের মানুষ মাথা গোঁজার ঠাঁই পাব না।

পূর্ব নাওডোবা মাঝিরঘাট এলাকার বাসিন্দা আকরাম হোসেন, বাদশা মাদবর ও ইয়ারন বেগম বলেন, কয়েদিন ধরে বাঁধটি ধসে নেমে যাচ্ছে। ভাঙনের বিষয়টি আমরা জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করেছি। তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত বাঁধ ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে আমাদের এলাকার পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়বে। তাই বাঁধটি দ্রুত সংস্কার দরকার।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুমন বনিক বলেন, গত ৩ নভেম্বর থেকে আকস্মিক নদী ভাঙন শুরু হয়। ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এছাড়া যেখানে বাঁধ ভাঙন দেখা দিয়েছে এর উপরে দীর্ঘদিন বালু রেখে ব্যবসা করা হচ্ছে। আর এখানে চ্যানেলটাও অনেক গভীর হওয়ায় নদীর পানি নামার সময়ও ভাঙন দেখা দেয়।

তিনি বলেন, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন করেছেন। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা ভাঙন রক্ষার জন্য দ্রুত জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করব। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত