সমাজে যত ধরনের পাপচর্চা রয়েছে তার মধ্যে পরচর্চা অন্যতম। অন্যান্য গুনাহ থেকে আমরা বিবেকের তাড়নায় অনেক সময় বেঁচে থাকি। কিন্তু পরচর্চা থেকে আমরা মোটেও সতর্কতা অবলম্বন করি না। আর এ সতর্কতা অবলম্বন না করার কারণ দুটি। এক. গিবত কাকে বলে তা জানি না। দুই. জানলেও ততটা গুরুত্ব দিই না। অথচ গিবত বা পরদোষ চর্চা এমন একটি জঘন্য অপরাধ, আল্লাহতায়ালা এটাকে আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের একে অন্যের গিবত করবে না।’ (সুরা হুজুরাত ১২)
হাদিসে গিবতের পরিচয় সম্পর্কে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার (সাহাবিদের) জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি জানো গিবত কাকে বলে? তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসুলই ভালো জানেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, (গিবত হলো) তোমার ভাই সম্পর্কে তোমার এমন কোনো আলোচনা করা, যা সে (শুনলে) অপছন্দ করবে। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আমি আমার ভাই সম্পর্কে যা বলছি তা যদি তার মধ্যে থাকে তবুও কি আপনি সেটাকে গিবত মনে করেন? তিনি বলেন, তুমি যা বললে (বাস্তবে) তা যদি তার মধ্যে থাকে, তবে অবশ্যই তুমি তার গিবত করলে। আর তুমি যা বললে তা যদি তার মধ্যে না থাকে, তবে তুমি তাকে অপবাদ দিলে। (সহিহ মুসলিম)
এই হাদিস থেকে আমরা গিবতের পরিচয় জানতে পারলাম। অর্থাৎ গিবত বলা হয় কারও অগোচরে বা অনুপস্থিতিতে তার এমন দোষ আলোচনা করা, যা সে শুনলে অবশ্যই মনে কষ্ট পাবে। তার এই দোষ শরীর, মেধা, চরিত্র, আত্মা, অর্থ-সম্পদ, সন্তান, পিতা-মাতা, স্ত্রী-পরিজন, চাকর-বাকর, ওঠাবসা, চলাফেরা, কথাবার্তা ইত্যাদি যে কোনো বিষয় সম্পর্কিত হোক না কেন। তার সঙ্গে সম্পৃক্ত যেকোনো দোষ বলাই গিবতের অন্তর্ভুক্ত। আর এর প্রকাশও হতে পারে বিভিন্নভাবে। যেমন শব্দের সঙ্গে ইশারা-ইঙ্গিতে, চোখ দ্বারা, ভ্রু, মাথা, হাত ইত্যাদি দ্বারা। মোটকথা, অসন্তুষ্টিমূলক কোনো বিষয়ে কারও অনুপস্থিতিতে মানুষদের কাছে উল্লেখ করাই হলো গিবত। আর যদি কারও দোষের কথা অন্যের কাছে তার সামনেই আলোচনা করা হয়, তবে তা মানহানিকর বিবেচ্য হবে, যা আরও বড় গুনাহ। কেউ কারও গিবত করলে তার কাফফারা তৎক্ষণাৎ দেওয়া উচিত।
গিবতের কাফফরা হলো যার দোষ বলা হয় তার কাছে ক্ষমা চাওয়া, যদি তার কানে গিবত করা সম্বন্ধে খবর পৌঁছে। আর যদি সে না জানে বা মারা গিয়ে থাকে, তবে তার জন্য তওবা-ইসতিগফার করা। সুতরাং গিবত কোনো ছোট বিষয় নয়; বরং অত্যন্ত বড় গুনাহ। আর এটা বান্দার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই বান্দা না মাফ করলে গিবতের গুনাহ গুনাহই রয়ে যাবে, কখনো ক্ষমা হবে না। আল্লাহতায়ালা আমাদের গিবত থেকে বাঁচার তওফিক দান করুন। আমিন।
