ছয় বছরেও শেষ হয়নি সাব-স্টেশনের কাজ

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:৩৭ এএম

হবিগঞ্জে ছয় বছরেও শেষ হয়নি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের কাজ। কবে নাগাদ শেষ হবে তাও নির্দিষ্ট করে জানাতে পারছেন না দায়িত্বশীলরা। সাব-স্টেশনের অভাবে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, লো-ভোল্টেজে ভুগছেন হবিগঞ্জের প্রায় তিন লাখ মানুষ। ভোল্টেজ ওঠা-নামার কারণে নষ্ট হচ্ছে বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রনিক সামগ্রী।

সিলেট বিভাগে চারটি জেলার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয় ২০১৮ সালে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ লাইন উন্নয়ন, ট্রান্সফর্মার স্থাপন, ১৩টি সাব-স্টেশন নির্মাণসহ বিদ্যুৎ সঞ্চালন নিরবচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে এ কাজে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে হবিগঞ্জের অংশের কাজটি পায় বিদ্যুৎ কারিগরি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনার্জিপ্যাক। এর জন্য বরাদ্দ ধরা হয় ৯০ কোটি টাকা। হবিগঞ্জ শহর বাইপাস সড়কে আধুনিক স্টেডিয়ামের লাগোয়া বিদ্যুৎ বিভাগের নিজস্ব জমিতে প্রায় চার বছর আগে সাব-স্টেশন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই ভবনের চারতলার ছাদ ও ইটের গাঁথুনির কাজ শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে থাকার পর সম্প্রতি ভবনের নিচতলায় কয়েকটি মেশিন এনে রাখা হয়েছে। অযতœ-অবহেলায় এসব মেশিনের কোনো কোনো জায়গায় মরিচা ধরে গেছে। সেখানে ঠিকাদারের কোনো প্রতিনিধি পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মচারী জানান, হবিগঞ্জের সাবেক এমপি আবু জাহির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির পাশাপাশি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমানকে ভবন নির্মাণের সাব-ঠিকাদার নিয়োগের জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে কয়েক মাস ধরে ঠিকাদারের সঙ্গে ঝামেলা দেখা দেয়। শেষমেশ আবু জাহিরের দাবি পূরণ করে কাজে হাত দেয় এনার্জিপ্যাক। এসব কারণে কাজে অনেক বিলম্ব হয়।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনার্জিপ্যাকের কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।

প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সালেহ আহমেদ জানান, প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে তারা তাগাদা দিচ্ছেন। কিন্তু এনার্জিপ্যাক হঠাৎ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ায় যথাসময়ে কাজ শেষ করতে পারছে না। তবে তিনি আশা করছেন, আগামী বছরের মাঝামাঝিতে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হতে পারে।

এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক চন্দন কুমার সূত্রধর বলেন, ‘সাব-স্টেশনটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে।  ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হলেই সাব-স্টেশনটি চালু করতে বেশি সময় লাগবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত