সেই জাইফা উদ্ধার নজরদারিতে বাবা

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:২৩ এএম

পুরান ঢাকার আজিমপুরের একটি বাসা থেকে ডাকাতরা মালপত্র লুটের সঙ্গে নিয়ে যায় আট মাস বয়সী শিশু আরিসা জান্নাত জাইফাকে। গত শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে গভীর রাতে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব। একই সঙ্গে ফাতেমা আক্তার শাপলা (২৭) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।

শিশুটিকে উদ্ধারের পর র‌্যাব জানায়, ডাকাতির পর মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়। ঘটনায় পরিবারের কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি র‌্যাব শিশুটির বাবাকেও নজরদারিতে রাখার কথা জানিয়েছে।

জানা যায়, গত শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে র‌্যাব- ১০-এর একটি দল মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাসা থেকে ফাতেমাকে গ্রেপ্তার করে। ওই বাসা থেকেই জাইফাকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌস বলেন, শিশুটির মা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টেনোগ্রাফার হিসেবে কর্মরত। তিনি মন্ত্রণালয়ের বাসে যাতায়াতের সময় কৌশলে ওই বাসে ওঠেন অপহরণকারী ফাতেমা। দুই সপ্তাহ আগে শিশুটির মায়ের সঙ্গে পরিচয়ের সময় নিজেকে রাইসা নামে পরিচয় দেন। তার বাড়ি নওগাঁ জেলা বলেও মিথ্যা বলেন। ফাতেমা জানান তিনি অবিবাহিত এবং একটি বিশ^বিদ্যালয়ের বিবিএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী। পড়ালেখার পাশাপাশি সচিবালয়ের পরিবহন পুলে অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করেন। তার ঢাকায় থাকার জন্য সাবলেট হিসেবে একটি ভালো রুম দরকার। এরপর শিশুটির মায়ের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে কয়েকবার কথা হয়। পরে শিশুটিকে দেখাশোনার কথা চিন্তা করে তার মা ফাতেমাকে সাবলেট হিসেবে ভাড়া দিতে রাজি হন। ফাতেমা গত ১৪ নভেম্বর বিকেলে বাসায় আসেন এবং ভিকটিমের মাকে ২ হাজার টাকা অগ্রিম ভাড়া হিসেবে দিয়ে বাসায় রাত্রি যাপন করেন। পরের দিন সকালে ফাতেমা ভিকটিমের মা ফারজানাকে জানান, গ্রাম থেকে তার চাচাতো ভাই চাল নিয়ে তার বাসায় আসবেন।

র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় ফাতেমা তার চাচাতো ভাই পরিচয়ে তিন ব্যক্তি সুমন, হাসান ও রায়হানকে বাসায় নিয়ে আসেন। বাসায় আসার পর আলাপচারিতার একপর্যায়ে ফাতেমা ও তার কথিত চাচাতো ভাইয়েরা ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভিকটিমের মাকে ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলেন। এ সময় ফাতেমা ও তার সহযোগীরা বাসার স্বর্ণালংকার ও ১ লাখ ৭০ হাজার টাকাসহ মূল্যবান মালপত্র লুট করে ভিকটিম জাইফাকে নিয়ে চলে আসেন এবং তার সহযোগীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করেন। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিম জাইফাকে উদ্ধারসহ অপহরণের পরিকল্পনাকারী ফাতেমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, ফাতেমা ও তার সহযোগীরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে কয়েকদিন ধরে বাড়িটি রেকি করে আসছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বড় ডাকাতি। পরে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় তারা শিশুকে এক দিনের মাথায় অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ঘটনাটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে তারা ভিকটিমের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করতে পারেননি।

র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তার ফাতেমা একজন গৃহিণী। তিনি ২০১০ সালে তার পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে থাকতেন। ২০১২ সালে বগুড়ার একটি স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০১৪ সালে রাজধানীর একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তী সময়ে রাজধানীর অন্য একটি কলেজে মার্কেটিং বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও তা শেষ করেননি। ২০২৩ সালে বিয়ে করে তিন-ট-চার মাস আগে মোহাম্মদপুর নবীনগর হাউজিং এলাকায় তার স্বামীর নিজস্ব ফ্লাটে বসবাস শুরু করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌস বলেন, তাদের ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ফাতেমার আগে কখনো এমন অপহরণের কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই চক্রের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারের কেউ জড়িত আছেন কি না, বিষয়টি তদন্তে বেরিয়ে আসবে। ভুক্তভোগীর স্বামীও আমাদের নজরদারিতে আছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত