নকীব পদক প্রদান ও একটি সমীক্ষা

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:১৪ এএম

নকীব দেশের অন্যতম শিশু-কিশোর বিষয়ক ম্যাগাজিন। যা ২০০৪ সাল থেকে ধারাবাহিক প্রকাশিত হয়ে আসছে। শুরু থেকেই রয়েছে পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে। সারা দেশে বিশাল এক পাঠক সমাজ তৈরি করেছে। তরুণরা যখন নেট দুনিয়ায় আসক্ত, তখনো নকীব তার পাঠকদের ধরে রেখেছে। দেশসেরা লেখকদের ছড়া-কবিতা, গল্প, ভ্রমণ, ফিচার, উপন্যাস, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, জানা-অজানা, রহস্য, রম্যগল্প, কৌতুকসহ নানান আয়োজন থাকে নকীবের পাতায় পাতায়।

শিশু থেকে তরুণ বা যুবকদের জন্য নকীব সুখপাঠ্য হয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে নকীব নিয়মিত সাহিত্য সভা, কর্মশালার আয়োজন করে আসছে। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে উঠে আসছে অসংখ্য তরুণ লেখক। নকীবের হাত ধরে এখন অনেকেই প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত লেখক।

সারা দেশের তৃণমূলে ছড়িয়ে থাকা মেধাবীদের নিয়ে কাজ করা সহজ কথা নয়। কিন্তু জাতীয় শিশু-কিশোর পত্রিকা মাসিক নকীব দীর্ঘ ২১ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে সত্য-সুন্দর, সাহিত্য- সংস্কৃতির সৌন্দর্য সবার সামনে তুলে ধরতে। তরুণদের ভুল পথে নয়, আলোর পথে রাখতে।

নকীব তরুণদের উৎসাহিত করতে প্রতি বছর আয়োজন করে সাহিত্য প্রতিযোগিতা। ছড়া-কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কারও দিচ্ছে। নকীবের নির্বাহী সম্পাদক জিয়াউল আশরাফ বলেন, নকীব শক্তিমান কিছু লেখক তৈরি করতে চায়। যারা বাংলা ভাষায় শিশু সাহিত্যের নেতৃত্ব দেবে। শিশুদের পরিচর্যা ছাড়া আদর্শ জাতি গঠন সম্ভব নয়। সাহিত্য সংস্কৃতিতে নিজস্বতা না থাকলে দেশের সীমানাও রক্ষিত হয় না। তাই আমাদের শিশুরা যেন ইসলাম, দেশ, দেশের স্বাধীনতার অর্থ বুঝে, তাদের মধ্যে যেন দেশপ্রেম থাকে, এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে নকীব।

জাতীয় শিশু-কিশোর পত্রিকা মাসিক নকীব-২০২১ সাল থেকে নকীব পদক প্রবর্তন করে। গুণী লেখকদের এ পদক প্রদান করে আসছে। ২০২১ নকীব পদক পান বরেণ্য শিশুসাহিত্যিক, তরুণদের রাহবার মরহুম কবি মহিউদ্দিন আকবর, জনপ্রিয় লেখক, আলেম মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন, বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক গল্পকার এনায়েত রসুল।

করোনার কারণে এক বছর অনুষ্ঠান না হলেও ২০২৩ সালে আবারও পদক প্রদানের ধারা চালু হয়। ২০২৩ সালে মরণোত্তর পদকপ্রাপ্ত হন বাংলাদেশের ইসলামি সাহিত্যের জাগরণ সৃষ্টিকারী লেখক, সিরাত গবেষক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (রহ.)। সময়ের শ্রেষ্ঠ শিশুসাহিত্যিক, অনুবাদক ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী, বিশিষ্ট লেখক গল্পকার আহমেদ রিয়াজ।

২০২৪-এ পদকে নির্বাচিতদের নাম এখনো জানা যায়নি। তবে ২০ নভেম্বর ২০২৪, বুধবার সেই আয়োজনটি হতে যাচ্ছে। শিশুসাহিত্যিক জিয়াউল আশরাফ বলেন, আমরা বড়দের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদের মূল্যবান পরামর্শ নিয়েছি। তাদের মতামত ও প্রস্তাবনা মোতাবেক আলোচনা-পার্যালোচনা করে অনুষ্ঠানের আগেই আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব ইনশাআল্লাহ।

নকীবের নির্বাহী সম্পাদক আরও বলেন, নকীব পদক একটি সম্মানজনক পদক। এখানে লেখালেখি ও সাহিত্য সংগঠনের মাধ্যমে সমাজ গঠন, আমাদের শিশুদের পরিচর্যা, তরুণদের উৎসাহ প্রদান করেন এমন অনেক বিষয় সামনে নিয়ে আমাদের কাজ করার ইচ্ছে। সাহিত্যের মাধ্যমে যারা তরুণ সমাজ, সমাজ ও দেশ নিয়ে কাজ করেন তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। নকীবের এই পদক প্রদানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে ইনশাআল্লাহ। সামনে বড় পরিসরে আরও সুন্দরভাবে কাজ করার ইচ্ছা আছে। জিয়াউল আশরাফ বলেন, নকীবের এই সকল আয়োজনে দেশের সব লেখক, গুণীজনের সহযোগিতা ও পরামর্শ চাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত