আওয়ামী লীগকে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘এটা ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা রাজনৈতিক দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি। বিএনপি এটা করেছে। বলেছে, সব রাজনৈতিক দল অবশ্যই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সুতরাং তারা ইতিমধ্যে রায় দিয়ে দিয়েছে। আমরা দেশের একটি প্রধান দলের মতামতকে উপেক্ষা করব না।’
তাহলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আপনার কোনো আপত্তি নেইÑ এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘কোনো একটি দল বা আরেকটি দলকে বেছে নেওয়ার জন্য আমি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি নই। আমি রাজনীতিকদের আকাক্সক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করছি।’ ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় বসে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকার গতকাল সোমবার হিন্দুর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে খেলাপি ঋণসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগ ও সেগুলোর সফলতার কথা তুলে ধরেন ড. ইউনূস।
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে দেওয়া বিবৃতির কথা তুলে ধরে হিন্দুর সাংবাদিক প্রধান উপদেষ্টার কাছে জানতে চান, নতুন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সময় আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়ে তিনি কতটা আত্মবিশ্বাসী। জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশ নিয়ে কোনো বিবৃতি দেননি।
তখন হিন্দুর সাংবাদিক বলেন, ‘তিনি দিয়েছেন, সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে...।’
জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘ভালো। এখন বাংলাদেশ ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে বলি। সম্ভবত তিনি সঠিকভাবে অবগত নন। এটা অপপ্রচার, যা বিশ্ব জুড়ে চলছে। কিন্তু যখন তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বাস্তবতা সম্পর্কে জানবেন, তখন ট্রাম্প অবাক হবেন যে তাকে কতটা ভিন্নভাবে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানানো হয়েছে। আমি মনে করি না, শুধু যুক্তরাষ্ট্রে একজন নতুন প্রেসিডেন্টের কারণে সবকিছু বদলে যাবে। পররাষ্ট্রনীতি ও দেশের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের কারণে সাধারণত পরিবর্তিত হয় না। তাছাড়া ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যদি পরিবর্তন হয়ও তাহলে আমাদের মনে রাখতে হবে এটাও বাংলাদেশ-দুই, যেটাকে আমরা বলছি নতুন বাংলাদেশ। সুতরাং আমরা অপেক্ষা করব এবং যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আসেন ও দেখেন এবং আমাদের অর্থনীতি যদি ভালো করতে থাকে তাহলে তারা খুবই আগ্রহী হবে। তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সরকারি ক্রেতা, আমাদের দিক থেকেও তাই। এটা খুবই ভালো সম্পর্ক, যা আমরা বছরের পর বছর গড়ে তুলেছি। আমাদের আশা, এটা আরও জোরদার হবে।’
হিন্দুর সাংবাদিক এ পর্যায়ে প্রশ্ন করে বলেন, ট্রাম্পের কথাকে আপনি অপপ্রচারের ফল বলছেন। কিন্তু শুধু তিনি নন, ভারত সরকার বাংলাদেশে হিন্দুদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে হত্যা করা হয়েছে, এমনকি ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এসব ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকটি বিবৃতি দিয়েছেন। আপনি এটার ক্ষেত্রে কী বলবেন?
জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে প্রথম ফোন কলে (১৬ আগস্ট) তিনি সুনির্দিষ্টভাবে বলেছিলেন যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হচ্ছে এবং এরকম আরও অনেক কিছু। আমি তাকে খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, এগুলো অপপ্রচার। অনেক সাংবাদিক এখানে আসার পর কিছু উত্তেজনা নিয়ে খবর প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু মিডিয়ায় যেভাবে এসেছে, সেভাবে হয়নি।’
এরপর হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে এর পেছনে কে আছে বলে আপনি মনে করেন?’
জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি জানি না। কিন্তু এসব প্রচারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। সব ঘটনার পেছনে একদল ব্যক্তি রয়েছেন।’
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও সাংবাধিকদের সুরক্ষা নিয়ে হিন্দুর সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, ‘মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বরেই রাজনৈতিক সহিংসতায় ৮৪১ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং আটজন ব্যক্তি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আমরা জানতে পেরেছি, অনেক সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, আপনার সরকার অতীতের আচরণ অব্যাহত রেখেছে।’
জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘মানুষকে বিচার করতে দিন। এ সরকার কী করেছে এবং অন্য সরকার কী করেছে, তা তুলনা করে দেখুন। আমি বিতর্ক করতে যাচ্ছি না। আমরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছি। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অ্যাক্রিডিটেশন আইন আমরা প্রণয়ন করিনি। আমরা শুধু এর প্রয়োগ করেছি এবং আপনি এটা নিয়ে বিতর্ক করতে পারেন যে, এ প্রয়োগ সঠিক কি না। আমি আইনটি পরিবর্তনের পক্ষে।’
ট্রাম্পের সঙ্গে কখনো কথা হয়নি তার দলে বন্ধু আছে : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তার সরকার বাংলাদেশে যে পরিবর্তন আনতে চাচ্ছে, সে পরিবর্তন শুধু সাময়িক সময়ের জন্য নয়। তার ভাষ্য, এখানে মৌলিক পরিবর্তন আনা হবে। যাতে ভবিষ্যতে সেই ধারায় সব চলতে পারে। সম্প্রতি আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের (কপ২৯) ফাঁকে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকার তিনি নানা বিষয়ে কথা বলেন।
ওই সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে চলমান সংস্কারপ্রক্রিয়া ছাড়াও আগামী নির্বাচন, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ট্রাম্পের সঙ্গে অতীতে কখনো আমার আলাপ-আলোচনা হয়নি। তাই ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে আমার কোনো সমস্যা নেই। আর আপনি যদি রিপাবলিকান পার্টির কথা বলেন, তাহলে বলব, আমার ডেমোক্রেটিক পার্টিতে বন্ধু আছে, রিপাবলিকান পার্টিতে বন্ধু রয়েছে। আমাকে কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেল দিতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ (হাউজ) ভোট দিয়েছিল। এ বিষয়ে উভয় পার্টির সদস্যরা শতভাগ একমত হয়েছিলেন। আমাকে এ মেডেল দেওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। রিপাবলিকান পার্টি উদ্বিগ্ন বা ডেমোক্রেটিক পার্টি উদ্বিগ্ন বা ট্রাম্প উদ্বিগ্ন এ হিসেবে আমার কোনো সমস্যা হয়নি। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার কারণে হঠাৎ করে কোনো নেতিবাচক কিছুর উদ্ভব হবেÑ এমন শঙ্কা আমি দেখছি না। আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এমন নয়, যা প্রেসিডেন্ট কে, তার ওপর নির্ভর করে। দেশটির এ নীতির একটি স্থিতিশীল অংশ আছে।’
সরকারের সময়সীমা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা স্থায়ী সরকার নই। নিয়মিত সরকার পাঁচ বছরের হয়। নতুন সংবিধানে সরকারের মেয়াদ সম্ভবত চার বছর হতে পারে। কারণ, মানুষ আরও দ্রুত সময়ে সরকারের পরিবর্তন চায়। কাজেই এটা (অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ) নিশ্চিতভাবেই চার বছরের কম হবে। আরও কম হতে পারে। এটা পুরোপুরি নির্ভর করছে মানুষের চাওয়া ও রাজনৈতিক দলগুলোর চাওয়ার ওপর।’ তিনি বলেন, ‘যদি রাজনৈতিক দলগুলো চায় এটা (সংস্কার) বাদ দাও, নির্বাচন দাও। আমরা সেটাই করব।’
সে ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি চার বছর থাকছেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি সেটা বলিনি যে চার বছর থাকব। আমি বলেছি, আমাদের মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর হতে পারে। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য সেটা নয়। আমাদের উদ্দেশ্য, যত দ্রুত সম্ভব শেষ করা।’
আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি যা করি সেটা নিয়েই খুশি। জীবনের এই শেষ সময়ে এসে সেটা বদলাতে চাই না।’
সাক্ষাৎকারে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ ও বিভিন্ন দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে সেটা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সবার সচেতনতা জরুরি। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশি^ক ইস্যু। গ্লোবাল ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমেই এটি সমাধান করতে হবে। আমি প্রকল্পগুলোকে নিরুৎসাহিত করছি না। কিন্তু এখানে একটি ওখানে একটি প্রকল্প নিয়ে এ সমাধান হবে না।’ তার ভাষ্য, আমাদের জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা না হলে পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান করা যাবে না।
বাংলাদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে যে সিস্টেম ছিল, সেটার কারণে বাংলাদেশ গভীর দুর্নীতিতে ডুবে ছিল। এটা থেকে দেশকে ফেরাতে আমাদের হাতে অনেক বড় কাজ। প্রতিটি খাত ধরে ধরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ পরিবর্তন শুধু সাময়িক সময়ের জন্য নয়। এখানে মৌলিক পরিবর্তন আনা হবে। যাতে ভবিষ্যতে সেই ধারায় সব চলতে পারে।’
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কবিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এর জন্য ভারতকেও এগিয়ে আসতে হবে।’
পালিয়ে ভারতে যাওয়া শেখ হাসিনা সেখানে বসে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যেসব কথা বলছেন, এগুলোকে সরকার কীভাবে দেখছে জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে আমরা ভারতীয় কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আমরা বলেছি, আপনারা তাকে থাকতে দিয়েছেন, সেটা ঠিক আছে। তবে এটা নিশ্চিত করুন যেন তিনি আমাদের জন্য কোনো সমস্যা তৈরি না করে।’
শেখ হাসিনা নিজেকে এখনো প্রধানমন্ত্রী দাবি করার বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘এটা বাস্তবতা নয়। এমনকি তাকে আশ্রয় দেওয়া দেশ ভারতও বলছে যে, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী।’
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আইনি প্রক্রিয়া চলছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার প্রত্যাবর্তন চাওয়া হবে।
বাংলাদেশে নির্বাচন কবে হতে পারে জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, আন্দোলন হয়েছে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য। এখনই নির্বাচন দিয়ে দিলে সেই আগের অবস্থাই চলতে থাকবে। সারা দেশের মানুষ চায় নতুন কিছু হোক। তার জন্য অনেক কিছু প্রয়োজন। এর জন্য আইন, সংবিধানসহ অনেক সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমরা সংস্কারের জন্য কমিশন গঠন করেছি। তারা ডিসেম্বরের শেষে প্রতিবেদন জমা দেবে। দুটি কাজ একই সঙ্গে চলছে নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং সংস্কারকাজ।’
এখানে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবকিছু জনগণের সঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের মতামতের ভিত্তিতেই হচ্ছে। বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনের সঠিক সময় বিষয়ে কোনো ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, ‘না, এমন কিছু নেই।’
বর্তমান সরকারের সময়ে সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে নজর রাখছি। আমরা সবসময়ই বলছি, সবাই এ দেশের নাগরিক। সংবিধান সবাইকে সমান অধিকার দিয়েছে। মতপ্রকাশ, নিজ ধর্ম পালনের নিশ্চয়তা সংবিধান দিয়েছে।’
হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বাড়ছে বলা হলে ড. ইউনূস বলেন, ‘বাড়ছে না, আমি বলব কমছে। আন্দোলনের সময় যেসব হামলা হয়েছে, সেটা এজন্য হয়নি যে তারা হিন্দু, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হয়েছে তারা আওয়ামী লীগ করে বলে।’
এটাকে সমাধানে সরকার কী করবে? ড. ইউনূস বলেন, ‘মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সবাই একটি পরিবার। একে অন্যকে শত্রু মনে করা যাবে না। দেশে আইন আছে। নাগরিকের অধিকার আছে। আমাদের কাজ হচ্ছে সবার অধিকার নিশ্চিত করা।’
চার বছর মেয়াদের কথা বলেননি প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ চার বছরই হবে এমন কথা বলেননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, ভালো-মন্দ না শুনে অনেকে হেডলাইন দিয়ে দিচ্ছে। পুরো বিষয়টি ক্লিয়ার করা হয়েছে, চার বছরের কথা বলা হয়নি। চার বছর রেফারেন্স আসছে যে কারও কারও ডিমান্ড ছিল পার্লামেন্টের মেয়াদ চার বছর হোক। সেই আলোকে একটা সরকারের ক্ষেত্রে এই কথা আসছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রে এটা বলা হয়নি।
গতকাল সোমবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎকারের ব্যাখ্যায় শফিকুল আলম বলেন, তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন সংবিধানের বিষয়ে অনেক কথাবার্তা হচ্ছে, সেখানে বলা হচ্ছে সংসদের মেয়াদ চার বছরে আনা হোক। এর পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়েছে, এটা কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিষয় নয়। তখন ওনাকে জিজ্ঞেস করা হলো আপনার ক্ষেত্রেও চার বছর কি না? তারপর প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন চার বছরের কম। এখানে চার বছরের কথা বলা হয়নি। আপনারা ভালোমতো শোনেন।
প্রেস সচিব আরও বলেন, পুরো বিষয়টা ক্লিয়ার করতে হবে। পুরো ইন্টারভিউটা আপনারা (গণমাধ্যমকর্মী) ভালোভাবে শোনেন। ইন্টারভিউতে তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) কী বলেছেন? সংবিধান নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে পার্লামেন্টের ডিউরেশন চার বছরে আনা হোক। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কথাটা বলেছেন; অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রসঙ্গে তিনি এটা বলেননি।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও অপূর্ব জাহাঙ্গীর উপস্থিত ছিলেন।
