পুলিশ প্রশাসন সংস্কার করে নির্বাচন দিন

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:০০ এএম

পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনব্যবস্থা সংস্কার করে অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকে অন্তর্বর্তী সরকারে লোকজন যারা আছেন, তারা অনেক সময় অনেক কথা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। ফোকাস এক জায়গায় করুন। সেই ফোকাসটা হচ্ছে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও প্রশাসনকে ঠিক করে, বিচারব্যবস্থাকে ঠিক করে নির্বাচনের দিকে যান। বাকি সংস্কারগুলো যারা নির্বাচিত হয়ে আসবে তারা করবে। আমরা আগে থেকেই বলে আসছি, নির্বাচিত হয়ে এলে আমরা একা দেশ চালাব না। আমরা একটা জাতীয় সরকার গঠন করে যারা আমাদের সঙ্গে আন্দোলন করেছে তাদের নিয়ে দেশ চালাব। সমস্যাটা কোথায়, সন্দেহটা কোথায়? সন্দেহ কিন্তু আপনাদের মধ্যে আসতে শুরু করেছে।’

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি) আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা চাই, সরকার সাফল্য অর্জন করুক। তাদের সাফল্য মানে আমাদের সাফল্য। তারা ব্যর্থ হলে আমরা ব্যর্থ হব। আমরা চাই না, শেখ হাসিনা আবার ফিরে আসুক, আওয়ামী লীগের দুঃশাসন আবার ফিরে আসুক। আমরা রাজনীতিবিদরা বলছি, আমরা যারা একটু বয়স্ক, প্রাজ্ঞ তারা বলছি, দ্রুত নির্বাচন করুন। কেন বলছি? বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য? না। নির্বাচন দ্রুত না হলে সমস্যাগুলো বাড়বে। যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চায়, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ধ্বংস করতে চায়, তারা এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।’ তিনি বলেন, ‘দেখুন না কত সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এখন দেশে সাম্প্রদায়িকতা তৈরি করার জন্য কাজ করা হচ্ছে। ফ্যাক্টরি জ্বালিয়ে দিচ্ছে, যা আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এরা (অন্তর্বর্তী সরকার) কিছুই করতে পারছে না। কেন করতে পারছে না। কারণ পলিটিক্যাল শক্তি নেই। আজকে যদি একটা নির্বাচিত সরকার থাকত, তার পেছনে জনগণ থাকত, তাহলে এটা করা এত সহজ হতো? তারপরও আমরা আমাদের কর্মীরাই যতটুকু বন্ধ করার বন্ধ করতে পেরেছি।’

তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও মহাখালীতে রেলপথ অবরোধের কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘কালকে (সোমবার) তিতুমীর কলেজকে ছাত্ররা অবরোধ করেছেন। তারা কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি জানিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকার যদি জানত, এ রকম হতে পারে, তাহলে কেন আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। আসলে এই সরকার এখনো স্ট্যাবল হতে পারেনি। আমরা যেটা বারবার বলে আসছি, এসব আপনাদের কাজ না। আপনারা দ্রুত একটা নির্বাচন দেন। তাদের কাজ তারা করুক, রাজনীতিবিদরা তাদের কাজ করুক। আমরা তো সংস্কার প্রস্তাব দিয়ে দিয়েছি। ওখানে দেখেন কোনটা কোনটা আপনারা নেবেন, কোনটা কোনটা নেবেন না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে ঠিক করে আপনি একটা দ্রুত ব্যবস্থা নেন, এই কথা বলেছি। আমরা তো বলিনি, এত তারিখের মধ্যে নির্বাচন দেন, ওত তারিখের মধ্যে রোডম্যাপ দিতে হবে। কবে কী করবেন আপনারা জানান। সেটা জানালে তো মানুষের মধ্যে আস্থা আসবে যে, এত তারিখে ইলেকশন হবে। মানুষ তো ইলেকশন চায়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কালকে (সোমবার) দেখলাম একটা টকশোতে এমনভাবে কথা বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আছে অন্যদিকে যাওয়ার। সেজন্যই আমরা স্পষ্ট করে এ সরকারকে আহ্বান জানাতে চাই, আমরা চাই, আপনারা সফল হন। প্রথম দিন থেকে বলেছি, এ সরকারের সাফল্য মানে আমাদের সাফল্য, জনগণের সাফল্য, গণ-অভ্যুত্থানের সাফল্য। এরা ব্যর্থ হলে আমরা ফেল করব। আমরা আপনাদের এটুকু বলতে চাই, রাজনৈতিক দলগুলো সব সময় বাংলাদেশের ভালো করার চেষ্টা করে।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষ যে কথাবার্তাগুলো বলছে, সেটা গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়। সব জিনিসের দাম বেড়েছে। আমি রিকশা চালাতে পারিনি, সারা দিন গাড়ি নিয়ে রাস্তায় চার ঘণ্টা ধরে আটকে আছি। আমার গাড়িতে লাউসহ সবকিছু পচে যাবে, নষ্ট হয়ে যাবে। এর জন্য কি আমরা আন্দোলন করেছিলাম এ কথাগুলো আসছে। দিস ইজ আ বেড সাইন। আর আমাদের যারা শত্রু, ফ্যাসিবাদীরা, তাদের মিত্ররা এই সুযোগগুলো নেবে। কথাবার্তা নেই, ঠিক এই সময়ে এসব দাবি চলে আসছে। এত দিন যে ফ্যাসিস্টরা এসব দাবি পায়ের নিচে রেখে দিল, তখন কিন্তু কেউ কথা বলল না। জিজ্ঞাসা করলে বলে তখন কথা বলার সুযোগ ছিল না। এটা থেকে জাতিকে রক্ষা করার একমাত্র উপায় শহীদ জিয়াউর রহমানকে অনুসরণ করে সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অতি দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। যতবারই আপনারা বলেন, নির্বাচন নির্বাচন করি। আরে নির্বাচন নির্বাচন করি জাতির স্বার্থে, বিএনপির স্বার্থে করছি না।’

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ, এমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের সৈয়দ আলমগীর, শিক্ষক অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম, চিকিৎসক অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম, সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত