ষড়যন্ত্র এখনো থেমে যায়নি উল্লেখ করে নিজ দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনের পত্রিকার, বিভিন্ন খবর আপনারা অবগত। নিশ্চয়ই বুঝতে সক্ষম হচ্ছেন যে কোথাও কিছু একটা ষড়যন্ত্র চলছে। কাজেই জনগণকে সচেতন করতে হবে। জনগণের সঙ্গে থাকতে হবে।’ গতকাল মঙ্গলবার দলের ঢাকা বিভাগের নেতাকর্মীদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক এ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি। নির্বাচন ও সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের কথা বলার অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, ভোট প্রদানের অধিকারের জন্য আমাদের হাজারো সহকর্মী গুম হয়েছেন, খুন হয়েছেন। ৬০ লাখের বেশি মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন আমাদের নেতাকর্মী। আমরা এ যুদ্ধ করছি বাংলাদেশের মানুষের ভোটের, কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। কাজেই আমাদের যেকোনো মূল্যে এ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার নামের সঙ্গে ‘দেশনায়ক’ বা ‘রাষ্ট্রনায়ক’ জাতীয় সম্বোধন ব্যবহার করা থেকে দলের নেতাকর্মীদের বিরত থাকতে বলেন। তিনি বলেন, “সহকর্মী হিসেবে আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ ও নেতা হিসেবে আপনাদের কাছে নির্দেশ, আজকের পর থেকে দয়া করে আমার নাম যখন কেউ বলবেন, ‘দেশনায়ক’, ‘রাষ্ট্রনায়ক’Ñ এ কথাগুলো দয়া করে কেউ ব্যবহার করবেন না।”
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি এমন একটি দল যারা অতীতে দেশের উন্নয়নের জন্য, মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে হয়নি। আমরা সবাই জানি, অনেকেই বলেছেন বাংলাদেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে, দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারলে, জনগণের চাওয়া অনুযায়ী কাজ করতে পারলে, আগামী দিনে বিএনপিই সরকার গঠন করবে। এটা নির্ভর করছে দলের নেতাকর্মীদের ওপর।’
রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের ৩১ দফা হলো ভবিষ্যতে আমরা কীভাবে দেশ পরিচালনা করব, তার রূপরেখা। এটা প্রথমে ছিল ২৭ দফা। পরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আমাদের যুগপৎ আন্দোলনে যেসব দল শরিক ছিল, তাদের সবার মতামতের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, এটা শুধু বিএনপির নয়, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সব দলের সম্মিলিত চিন্তার ফসল। অনেকেই অনেক সংস্কারের কথা বলছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে দেশ-জাতি নিয়ে চিন্তা বহু আগে থেকে করছি। যখন কেউ চিন্তাই করেনি, সে সময় দেশের মানুষের সামনে ২৭ দফা ও পরে ৩১ দফা উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা বারবার বলেছি, ভালো প্রস্তাবনা এলে ৩১ দফার সঙ্গে গ্রহণ করা যাবে।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘এই ৩১ দফাকে দেশের মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে। জনসভা করে নয়, ছোট ছোট উঠান বৈঠক করে গ্রামে গ্রামে ইউনিয়নে ইউনিয়নে গিয়ে মানুষকে জানাব। আমি কয়েক দিন আগে এক বক্তব্যে বলেছিলাম, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি না হলে তাহলে যাই সংস্কার করি, কাজে লাগবে না। জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এর জন্য ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পৃথিবীর যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশে, ভোটের মাধ্যমে জবাবদিহি তৈরি হয়।’
প্রশিক্ষণ সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বক্তব্য রাখেন। মতামত প্রদান করেন ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
