তারুণ্যেই যে অভ্যাসগুলো রপ্ত করতে হবে

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:৩৪ এএম

তারুণ্যই ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের উপযুক্ত সময়। এ সময় রপ্ত করা অভ্যাসই পরবর্তী জীবনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। তাই এ সময় সুঅভ্যাস গঠনে মনোযোগী হওয়া উচিত। তারুণ্যেই রপ্ত করা উচিত এমন কয়েকটি অভ্যাস নিয়ে লিখেছেন রিয়াজ আহমেদ

ভোরে ঘুম থেকে ওঠা

ছোটবেলা থেকেই আমাদের বারবার বলা হয়েছে, ঊধৎষু ঃড় নবফ ধহফ বধৎষু ঃড় ৎরংব,/ গধশবং ধ সধহ যবধষঃযু, বিধষঃযু, ধহফ রিংব. কিন্তু বাস্তব জীবনে খুব কম মানুষই আমরা ভোরে ঘুম থেকে উঠতে পারি। ভোরে ঘুম থেকে ওঠার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। ভোরে ঘুম থেকে উঠলে দিনের কাজ সুন্দরভাবে করার জন্য আমরা বাড়তি কয়েক ঘণ্টা সময় বেশি পাই। ভোরের নির্মল বায়ু আমাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। দিনের কাজের জন্য পরিকল্পনার করার সময় পাই। এ জন্য ভোরে ঘুম থেকে ওঠার গুরুত্ব অনেক। তাই তারুণ্যেই ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস আয়ত্ত করতে হবে।

কমপক্ষে চার ঘণ্টার নিমগ্ন কাজ

অনেকেই একটানা কাজ করতে পারেন না। এর ফলে অনেক কাজই শুরু হলেও শেষ হয় না। তারুণ্যেই এ অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। যেকোনো কাজ শুরু করলে তা শেষ করার মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। আর তা সম্ভব হতে পারে, এক বসায় কমপক্ষে চার ঘণ্টা নিমগ্নভাবে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে। এর মানে এটা নয় যে, চার ঘণ্টার শেষ হওয়ার আগে আসন থেকে ওঠা যাবে না। বরং এক ঘণ্টা পরে পাঁচ মিনিটের বিরতি নিলে কাজে মনোযোগ রাখা সহজ হয়। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, পাঁচ মিনিটের বিরতি যেন পাঁচ মিনিটেই সীমাবদ্ধ থাকে।

নিজের খাবার নিজে রান্না করা

অনেকেই পরিবারের সঙ্গে বাস করার কারণে নিজের খাবার নিজেকে রান্না করতে হয় না। তারা অন্য কোথাও পড়াশোনা করতে গেলে বা জীবিকার সন্ধানে অন্য

কোথাও গেলে বিপদে পড়েন। স্বনির্ভরতা বলতে কেবল অর্থ উপার্জনকে বোঝায় না। বরং নিজের কাজ নিজে করাও বোঝায়। তাই পরিবারে বসবাস করলেও নিজের খাবার নিজে রান্না করতে শেখা উচিত। তাহলে পরিবারের অন্যদের অসুস্থতায় বা ব্যস্ততায় তাদের সাহায্য করা যেমন সম্ভব হবে, তেমনি পরিবার থেকে দূরে গেলেও বিপদে পড়তে হবে না।

ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা রক্ষা করা

তারুণ্যেই শিখতে হবে ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক জীবন, পেশাজীবন প্রভৃতির সীমা চিহ্নিত করতে শেখা এবং তা মেনে চলা। অনেকেই পেশাজীবনে পরিবারের নাম বা পরিচিত মহলের নাম জাহির করে পেশাগত সুবিধা বা অন্যান্য সুবিধা পেতে চায়। এটিও ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তার লঙ্ঘন। এক বন্ধুর কথা অন্য বন্ধুর কাছে প্রকাশ না করা, অন্যের গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাবান হওয়া প্রভৃতিও ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তার সীমার মধ্যেই পড়ে।

কমপক্ষে এক ঘণ্টা শরীরচর্চা করা

শরীরচর্চা যেকোনো বয়সেই শুরু করা গেলেও তারুণ্যে শরীরচর্চার রয়েছে বিবিধ উপকার। তারুণ্যে শরীরচর্চার মাধ্যমে মাংসপেশি শক্ত হয়, স্থিতিস্থাপক হয়। ফলে দেহ কর্মক্ষম থাকে দীর্ঘদিন। এটা তো দীর্ঘমেয়াদি উপকার। প্রতিদিন এক ঘণ্টা শরীরচর্চা করলে দেহ থাকে নিরোগ, সুস্থ। নির্গত হয় সুখানুভূতি জাগানিয়া হরমোন। ফলে মন প্রফুল্ল থাকে।

কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো

পরিশ্রমের ফলে আমাদের দেহ মনে শ্রান্ত হয়, ঘুম আমাদের দেহ ও মনকে বিশ্রাম দেয়। আমাদের দেহ মন আবার কাজের জন্য প্রস্তুত হয়। গবেষকরা বলেন, একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির সুস্থ থাকার জন্য দিনে কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টার ঘুম প্রয়োজন। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত হলে ঘুমের ব্যত্যয় হয়। তাই ঘুমের পরিমাণ ঠিক রাখতে একটি রুটিন করে সেই সময়ই ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। অনেক সময়, বিছানায় গেলেও ঘুম আসতে চায় না। সেক্ষেত্রে বিছানায় যাওয়ার দুঘণ্টা আগেই ডিভাইসের ব্যবহার সীমিত করতে হবে।

নিয়মিত ধ্যান করা

আমাদের মন অধিকাংশ সময় বিক্ষিপ্ত থাকে। সে জন্য আমরা কাজে মনোযোগ দিতে পারি না। কিন্তু যেকোনো কাজে সফলতার জন্য মনোযোগের সঙ্গে সেই কাজটি করে যাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মেডিটেশন বা ধ্যানের চর্চা আমাদের মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করে। অনেক সময় আমাদের জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে আমরা উদাসীন হয়ে পড়ি। মেডিটেশন আমাদের লক্ষ্যকে সুস্পষ্ট করে, তা অর্জন করতে অনুপ্রাণিত করে। প্রতিদিন কমপক্ষে আধা ঘণ্টা ধ্যান করলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়, দিনের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়, রুটিন মেনে চলা সহজ হয়। তাই তারুণ্যেই নিয়মিত ধ্যান করার অভ্যাস আয়ত্ত করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত