বিশ্বযুদ্ধের বিষয়ে হুঁশিয়ারি পুতিনের

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:১৪ এএম

ইউক্রেন সংঘাত এখন একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ থেকে বৈশ্বিক সংঘাতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় পশ্চিমাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বৃহস্পতিবার পুতিন বলেছেন, রাশিয়া পাল্টা আঘাত করতে প্রস্তুত।

ইউক্রেন মস্কোর বিরুদ্ধে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ করলেও, পুতিন জানান সেটি ওরেশনিক নামে একটি নতুন মাঝারি পাল্লার হাইপারসনিক নন-নিউক্লিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ইউক্রেনের ডনিপ্রো শহরে অবস্থিত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। ভবিষ্যতে আরও এমন আক্রমণ হতে পারে। তবে এসব আঘাতের আগে বেসামরিক জনগণকে সতর্ক করা হবে বলে জানান রুশ প্রেসিডেন্ট। গত ১৯ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ছয়টি এএটিএসএমএস এবং ২১ নভেম্বর ব্রিটেন ও ফ্রান্সের তৈরি স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ায় হামলা চালায় ইউক্রেন। তিনি বলেন, এরপর থেকেই আঞ্চলিক সংঘাত বৈশ্বিক রূপ নিচ্ছে। পশ্চিমারা বিশ্বকে একটি বৈশ্বিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

পুতিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি আগ্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়, আমরা সমানভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, শত্রুর এমন অস্ত্র ব্যবহার সামরিক কার্যক্রমের গতিপথ বদলাতে পারবে না।

পুতিন বলেন, যেসব দেশ তাদের অস্ত্র আমাদের সামরিক স্থাপনায় ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে, তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত করার অধিকার রাশিয়ার রয়েছে। কেউ যদি এটি নিয়ে সন্দেহ করে, তবে তারা ভুল করছে। অবশ্যই এর প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।

রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের ১৮ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরো ক্রিমিয়া, ৮০ শতাংশ ডনবাস অঞ্চল এবং জাপোরিজ্জিয়া ও খেরসন অঞ্চলের ৭০ শতাংশের বেশি ভূখণ্ড। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইউক্রেন সংঘাতকে জটিল ও বিপজ্জনক অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমা অস্ত্রের ব্যবহার এবং রাশিয়ার পাল্টা হামলা বিশ্বকে নতুন এক সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এদিকে, ইউক্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম দখলের দাবি করেছে রাশিয়া। দোনেৎস্ক অঞ্চলের ডালনে গ্রামটি দখল এ যুদ্ধে রাশিয়ার জন্য একটি বড় অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন এই গ্রাম দখলকে ৩৩ মাস ধরে চলা যুদ্ধে অগ্রগতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখছে মস্কো। তবে রাশিয়ার গ্রাম দখলের দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তারা। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলছে, ডালনে অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ বার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভাঙার চেষ্টা করেছে রাশিয়া। এ এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত